সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: এসএসসি ও সমমানের ফল সকাল ১০টায়, জানবেন যেভাবে      জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী      ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৭২      মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার      যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী      হাম উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৬৩      হেফাজত আমিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ      
দেশজুড়ে
বজ্রপাতে প্রবাসীর মৃত্যু, চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পরিবারের ভাগ্য বদলাতে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া। স্বপ্ন ছিল প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাবেন, সংসারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। কর্মস্থলে বজ্রপাতে প্রাণ হারান তিনি। চার মাস আগে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা, অভাব-অনটন ও হতাশার মধ্যে দিন কাটছে তার স্ত্রী, চার সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের।

জানা গেছে, গত ১০ মার্চ সৌদি আরবের একটি কৃষি খামারে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে নিহত হন রাসেল মিয়া। প্রবাস থেকে মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্ত্রী শাহানাজ আক্তার। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে থমকে যায় পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘটনার পরপরই হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। ঈদ উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থসহ সহায়তা দেন এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রায় এক মাস পর রাসেলের মরদেহ দেশে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাথমিক সহায়তার পর গত চার মাসে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য আর কোনো সহযোগিতা মেলেনি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে। অনেক সময় একবেলার খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি টিনের ঘরে চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শাহানাজ আক্তার। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে মারা যান তার মা। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পরপর দুই স্বজনকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এর সঙ্গে রয়েছে নিজের শারীরিক অসুস্থতা। গলায় অস্ত্রোপচার হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাসেল মিয়ার বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার বলেন, “অনেক দিন তিন বেলার বদলে একবেলা খেয়েই দিন কাটাতে হয়। নাতি-নাতনিদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবার জোগাড় করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ছেলেটা বেঁচে থাকলে আজ এই কষ্ট দেখতে হতো না।”

স্বামী হারানোর বেদনা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি শাহানাজ আক্তার। তিনি বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর কয়েকদিন সবাই খোঁজ নিয়েছিল। এখন আর কেউ আসে না। আমি নিজেও অসুস্থ, গলায় অস্ত্রোপচার হয়েছে। চার সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। অনেক সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারব কি না, সেটাও জানি না।”

তিনি সরকার, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিবেশী আবু রায়হান বলেন, “রাসেল মিয়ার পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।”

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, “রাসেল মিয়ার পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। চারটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “ওই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই আমরা পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিহতের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বসতঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চার সন্তানকে নিয়ে যেন নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশে থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেসব সহায়তা দেওয়া সম্ভব, সেগুলো প্রদানের চেষ্টা থাকবে।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রবাসীর মৃত্যু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close