শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বাঘা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি      তিন সন্তানকে বিষপান করিয়ে বাবারও বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু      বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করছে : নাহিদ ইসলাম      এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে : ডা. শফিকুর রহমান      আট দফা দাবিতে ১১ দলের রংপুরমুখী লংমার্চ শুরু      বাংলাদেশ ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ভারত      তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ২৩      
দেশজুড়ে
১১ দিনের অপেক্ষার অবসান, স্বজনদের কাছে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ছেলের ফেরার অপেক্ষায় কেটেছে ১১টি দিন। প্রতিদিনই গোলাম মোস্তফার মনে হয়েছে, এই বুঝি তার কলেজপড়ুয়া ছেলে মোশাররফ ফিরে আসবে। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে, বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

অবশেষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মার তীরে ছেলেকে ফিরে পেয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো তার।

শুধু গোলাম মোস্তফা নন, ১১ দিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে এসেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আরও চার পরিবারের সদস্য। তাদের ফিরে পাওয়ায় পরিবারগুলোতেও ফিরেছে স্বস্তি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পাট কিনে নৌকায় করে বাঘায় ফেরার পথে নদীর স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে ভুল করে ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়েছিলেন পাঁচ বাংলাদেশি। তাদের পাটবোঝাই নৌকাসহ আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ১১ দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের সাগরপাড়া সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরেন।

ফিরে আসা পাঁচজন হলেন—বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২২), ইউনুস মণ্ডলের ছেলে শাহাবুল আলী (৪২), শাজাহান আলীর ছেলে বাবর আলী (৪৫), নৌকার মাঝি জামাল হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪১) ও সামাদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৮)।

আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে তাদের স্বজনদের কাছে গ্রহণ করেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। পরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

বিএসএফের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া মোশাররফ হোসেনের বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, “এমপি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলে তার ছেলেসহ পাঁচজনকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন।”

ছেলেকে কাছে পেয়ে তিনি বলেন, “১১ দিন ধরে ছেলেকে কাছে না পেয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। প্রতিটি দিন তার ফেরার অপেক্ষায় কেটেছে। আজ ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। এমপির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, “এই ১১ দিন স্বামীকে ছাড়া খুব দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়েছে। প্রতিদিন তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ তাঁকে সুস্থভাবে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”

স্থানীয়রা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার চর থেকে পাট কিনে নৌকায় বাঘায় ফেরার সময় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে মাঝি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে নৌকাটি ভুল করে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। সেখানে বিএসএফের একটি টহল দল তাদের আটক করে।

আটকের পর পরিবারের সদস্যরা আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁদের ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

এরপর পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১১ দিন ভারতে আটক থাকার পর দেশে ফেরা আসাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাইসহ পাঁচজনকে ভারতের রানীনগর থানায় রাখা হয়েছিল। ১১ দিন পর তাঁরা মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন।”

পাঁচজনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “নদীর স্রোতের কারণে ভুলবশত তারা বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে আমি কখনো ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে, কখনো বিজিবির সিওর সঙ্গে, আবার কখনো জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। আমার এলাকার প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে নিজ সন্তানের মতো আপন। তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি খুশি।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেওয়ার পর তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ১১ দিন পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”

১১ দিন পর প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার মুহূর্তে আলাইপুরের পদ্মাতীরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে ফিরে আসায় পাঁচ পরিবারের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে।

কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  রাজশাহী     
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close