একটি সেতু, যার ওপর দিয়ে প্রতিদিন ছুটছে মানুষের জীবন। কেউ যাচ্ছেন স্কুলে, কেউ বাজারে, কেউবা অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালে। কিন্তু যে সেতু তাদের চলার পথ সহজ করার কথা, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। এমনই এক সেতুর দেখা মিলল কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙা। বাজারখোলা শাখা খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি। উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনা বাজার-ভবানীপুর এলাকায় সংযোগস্থল।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে গেছে, বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এই সেতু ছাড়া বিকল্প পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলও।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেতুটির নাজুক অবস্থা আরও খারাপ হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রতিদিনের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান চান স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, আর দেরি না করে পুরোনো সেতুর জায়গায় নির্মাণ করা হোক একটি নতুন ও টেকসই সেতু।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুচ্ছগ্রাম, ভবানীপুর, ঠেটালিয়া, তুলাতলী, নলচক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তর, বাজারখোলা দক্ষিণ ও শৈঠারদিয়া গ্রামের মানুষ নিয়মিত এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। এসব গ্রামের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়।
উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, ‘সেতুতে উঠলেই বুক ধরফড় করে। মনে হয়, যেকোনো সময় ভাঙা অংশের বাকি অংশও ভেঙে গিয়ে আমি সেতুর সঙ্গে পানির নিচে চলে যাব। প্রতিদিন অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এই সেতু ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সরকার আরিফ ও মো. শাকিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও সমস্যা হয়। সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ না করলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এই সেতুসহ প্রায় সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলো চলাচল বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। আমরা এসব সেতুর তালিকা করেছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে এসব সেতুর মেরামতের কাজ করা যাবে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই সেতুগুলোর কাজ শুরু হবে।’
কেকে/এমএ