শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী      জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু ১৯ মার্চ      সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      একসঙ্গে ৯৯ বিচারককে বদলি—কারা গেলেন কোথায়?      গুলশান-ধানমন্ডিসহ ঢাকার পাঁচ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ      হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৪৩      
জাতীয়
জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিল বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

তিনি বলেছেন, ‘সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে।’

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার লেকশোর গ্র্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। অনুষ্ঠানে মো. আসাদুজ্জামানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জামায়াতের প্রাক্তন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাক দলটিকে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই তথ্য তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী এই দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে বএ প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওই অবস্থান জামায়াত গ্রহণ করলে দলটির অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেবো, সেটা একটা ভ্রান্ত নীতি, ফ্যালাসি; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক— সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।’

‘আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট। এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি, এটা একটা জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখানে জামায়াতের কথা বলা হয়েছে। আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা কেউ উপস্থিত হতে পারেনি। এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। তারা উপস্থিত হয়ে বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন, কারণ দিস ইজ ডেমোক্রেসি।’

‘আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন— এটা যেমন সত্যি না, আবার তার সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না— এটাও সঠিক না। এই বইয়ের মধ্যে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে; ফাইন, উই হ্যাভ টু অ্যাকসেপ্ট। আমরা যদি এটা ধারণ করতে না পারি, সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব ৭১ নিয়ে উনার যে মূল্যায়ন করেছেন, উনি যে জাতির কাছে একটি স্টেটমেন্ট করার কথা বলেছেন, রাজ্জাক সাহেবের এই স্টেটমেন্টটা ২০১৬ সালে যদি সাইন করতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো। জামায়াত কিন্তু এই প্রশ্নটাই এখন মেনে নিয়েছে। এই স্টেটমেন্টের আলোকেই জামায়াতের আজকের পজিশন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিল, সেই কথাটি ইনকর্পোরেট করা আছে। এটাতে ২০২৫ সালের অ্যামেন্ডমেন্টে কিছু সংশোধনী আনা হলো। আমরা ২০২৬ সালে এটা অ্যাক্ট অফ পার্লামেন্ট করতে গেলে বিশেষ কমিটিতে এই বিষয়কে আনা হয়। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জামায়াতের নামটা এখান থেকে বাদ দেওয়া যাবে কিনা।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হলো যে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কারা?’ সংজ্ঞায় বলছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টির বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য— তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াতের দাবি ছিল, জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারি না।’

‘আলোচনার এক পর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’, ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’। পরে পার্লামেন্টে এই আইনটা প্লেস হলো। আপনারা জানেন যে পার্লামেন্টে আইন পাশ করতে গেলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়া যায়। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য এতে ‘না’ ভোট দেননি। এটা রেকর্ডেড, জামায়াত ‘না’ ভোট দেয়নি।’

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন এবং নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন। যেখানে তিনি একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। জামায়াত ইনডাইরেক্টলি ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে মেনে নিলো, বাই পার্টিসিপেটিং ইন দ্য পার্লামেন্টারি প্রসেস। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াতে ইসলামী   মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা   আইনমন্ত্রী   মো. আসাদুজ্জামান   জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close