পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তার বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে তারা ভবনটির বিভিন্ন অংশে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কলির মতো একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, ‘কলির মতো একটি শিশুকে যারা ধর্ষণ করে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেখতে চাই। দেশে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার। বাড়ির নাম নিশানা পর্যন্ত রাখা যাবে না। যাতে অন্যদের এখান থেকে শিক্ষা হয়। এ দেশের বহু ধর্ষণ হয়েছে। কিন্তু কোনটিরও দৃশ্যমান বিচার হয় না। এজন্য বাড়িটির একটি ইটও রাখতে চাই না।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, ‘তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।’
পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তাঁরা অংশ নেন।
কেকে/এমএ