রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল চারটার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এদিকে বিকাল পাঁচটায় রাষ্ট্রপতির বিষয়েই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, শারীরিক অসামর্থ্য বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ওই দায়িত্ব পালন করেন।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে পদত্যাগপত্র সংসদের স্পিকার বরাবর পাঠাতে হবে। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকার ওই দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালনে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীকে অবশ্যই ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।
কেকে/এমএ