মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ককে দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, ‘গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেও জনস্বার্থে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করতে হবে।’
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফের সীমান্তবর্তী নাফ নদী এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত সড়কটি সম্পন্ন হলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।’
তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীমান্ত সড়ক প্রকল্প তিন দফা সংশোধন ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ‘একটি প্রকল্প বারবার সংশোধনের প্রয়োজন কেন হলো, সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ সব সংশোধন জনস্বার্থে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন সরকারকে সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কাজ এগিয়ে নিতে হবে। বসে থাকার সুযোগ নেই; প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ করতে হবে।’
এ্যানি আরও বলেন, ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। দেশের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থ—দুই দিক সমন্বয় করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনীক চৌধুরী, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকালে মন্ত্রী টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ ও নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নাফ নদীর তীরঘেঁষে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। ঘুমধুম থেকে উখিয়ার পালংখালী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিন দফা সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি টাকা। পাঁচটি প্যাকেজে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
পরবর্তী সময়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং বেড়িবাঁধ ও সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি বেড়িবাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
কেকে/এআই