মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: চাপে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় সরকার      নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      একে একে গ্রেপ্তার ইমরান খানের তিন বোন      বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়াতে চান পরিবহন মালিকরা      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫      ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩০৫      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জ্বালানির জাঁতাকল
চাপে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় সরকার
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে একসঙ্গে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের এ রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি চাপ পড়বে পরিবহন খাতে। 

ইতোমধ্যে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। আর পরিবহন ব্যয়ের এ চাপ কৃষি, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে চাপে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

নতুন দামে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়েছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ফ্রেইট চার্জও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক চাপ কমানো এবং জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় সামাল দেওয়াও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মূল্য সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ২০৫ টাকা লিটার। অথচ মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পরও বিপিসিকে গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরে শুধু ডিজেলেই সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে এ পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। শুধু জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এত বড় ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘ্নিত হতো। প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক সুরক্ষার পারিবারিক কার্ড এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও ইপিআই কার্যক্রমও এতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সময় দেশে দাম বাড়ানো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পরিবর্তনের প্রতিফলন দেশের বাজারে দেখানো সম্ভব নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেটে বিশ্ব পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় মূল্য সমন্বয় করে দাম কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের কষ্টের বিষয়টি উপলব্ধি করে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার আগের জায়গায় বা তার চেয়ে কমিয়ে আনা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি খরচেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের অর্থনীতিতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান, কৃষির সেচ ও যান্ত্রিকীকরণ, নৌযান এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত প্রায় পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাতেই ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দাম : 

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ভারতে ১৩৪ দশমিক ৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ দশমিক ৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১ দশমিক ২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ দশমিক ৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ দশমিক ২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ দশমিক ৭১ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮ দশমিক ৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫ দশমিক ৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪ দশমিক ৭৯ টাকা। দেশে জ্বালানির মূল্য তুলনামূলকভাবে কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে জ্বালানি বিভাগ।

প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব : 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠকে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গতকাল সোমবার বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া ডিটিসি এলাকায় মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকি : 

দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় যখন সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে, তখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতির জন্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহারকারীদের ওপর। প্রতি লিটারে ২০ টাকা বেশি খরচ হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মাসিক পরিবহন ব্যয় বাড়বে।

তবে সাধারণ মানুষের ওপর বড় প্রভাব আসতে পারে পরোক্ষভাবে। বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় বাড়লে বাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে খাদ্য, পোশাক, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু সরাসরি জ্বালানি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এতে নিম্নআয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার তুলনামূলক বেশি চাপে পড়বে, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়বে এবং এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। তার মতে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশল কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। 

প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে : 

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব বাজারে পড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্যের বড় অংশ আগেই পরিবহন করে আনা হয়েছে। নতুন দরে জ্বালানি কিনে পণ্য পরিবহনের খরচ হিসাব করার পর পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়তে পারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও এক দফা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ : 

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ শেষে মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। 

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ওপর ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অবিলম্বে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান জামায়াত নেতারা।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গভীর রাতে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।

বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির : 

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। 

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বর্ধিত দাম বহাল থাকলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে দুই দফা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর ফলে যাতায়াত, যোগাযোগ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। এতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ : 

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর খবরে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয়। নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ায় এবার পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় আরও বাড়লে বাজারে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের বড় উদ্বেগ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়িতে তেল কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাসভাড়া, পণ্য পরিবহন, খাবার, কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাস শেষে সংসারের বাজেট সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বা পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য কঠোর বাজার নজরদারি প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া : 

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। আবার অনেকেই তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষেও যুক্তি দেখিয়ে পোস্ট করেছেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্য, যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ায় এবার বাসভাড়া ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে। 

অনেকের প্রশ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সামাল দিতে সাধারণ মানুষের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে ভাড়া ও পণ্যের দাম বাড়াতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসার খরচ সামাল দেওয়ার উদ্বেগও উঠে এসেছে। অনেকেই বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবের চেয়ে এর পরোক্ষ প্রভাবই সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানির জাঁতাকল   সাধারণ মানুষ   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close