প্রচণ্ড গরম এখন শুধু আবহাওয়ার সমস্যা নয়, অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের ১৩০-১৮০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে; যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান।
সংস্থাটি বলছে, ‘বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদনশীলতা কমেছে।’
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী কয়েক দশকে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তীব্র তাপপ্রবাহ এখন শুধু মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে কমিয়ে দিচ্ছে কর্মঘণ্টা, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রতি বছর গরমের কারণে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।’
এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে বাংলাদেশে ১৩০-১৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এটি দেশের জিডিপির প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশেষ করে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এই ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।’
চরম তাপপ্রবাহের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার তৈরি পোশাক শিল্পেও পড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তাপজনিত কর্মপরিবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক খাতের সম্মিলিত রপ্তানি আয় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।’
বিশ্বব্যাংকের তথ্যনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সময় নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারীর গৃহস্থালির কাজের চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় নারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহকে শুধু মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এ জন্য তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর হিট অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন, টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
কেকে/এমএ