বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুল লতিফ। আবেদনে তিনি চাকরিচ্যুতির আদেশ বাতিলের পাশাপাশি ডিএসইর সাম্প্রতিক ছাঁটাই ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া আবেদনে মো. আব্দুল লতিফ দাবি করেন, তিনি ডিএসইতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও), হেড অব সারভেইল্যান্স এবং লিস্টিং অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কোনো আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অন্যায্য ও একতরফা বলে উল্লেখ করেন।
আবেদনে তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর জবাব দেওয়ার পর ১৮ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ একটি ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজরি লেটারের মাধ্যমে জানায়, বিষয়টির পর্যালোচনা শেষ হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে নতুন কোনো অভিযোগ বা তদন্ত ছাড়াই ২৫ জুন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়, যা তিনি প্রাকৃতিক বিচারনীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
মো. আব্দুল লতিফ আরও দাবি করেন, চাকরিচ্যুতির চিঠিতে তার পদ আর প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হলেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর এমন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৩ জুলাই জারি করা এক চিঠিতে ডিএসইর এ চাকরিচ্যুতিকে ‘বেআইনি ও একতরফা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশনা দিয়েছে।
আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩’-এর বিধান লঙ্ঘন করে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইতে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করায় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একতরফাভাবে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শ্রম আইন ও ন্যায্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
তিনি জানান, গত ২১ জুলাই ডিএসইর মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপককে লিখিতভাবে তিনি অবৈধ চাকরিচ্যুতি মেনে না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, সেভারেন্স প্যাকেজ বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি, যাতে তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।
আবেদনে তিনি ২৫ জুনের চাকরিচ্যুতির আদেশ রেফারেন্স:(ডিএসই/এইচআর/টার্মিনেশন/২০২৬/২৪২/৪০২২) বাতিল করে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ পূর্বের পদে পুনর্বহালের নির্দেশনা, ডিএসইর সাম্প্রতিক ছাঁটাই, পদোন্নতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসইসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, ডিএসইতে সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল, সংশ্লিষ্টদের সসম্মানে পুনর্বহাল এবং পুরো বিষয়টি তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
কেকে/এলএ