চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে ফলাফলে মানবিক বিভাগে অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়া প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করেছে। তারা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল। এ দুটি বিষয়ে তারা বেশি ফেল করেছে। মানবিকের শিক্ষার্থীদের ফেলের প্রভাব পড়েছে এসএসসি ও সমমানের গড় ফলাফলে। এ কারণে গড় পাসের হার কমেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বিগত বছরের তুলনায় কমে গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানেও বোর্ড চেয়ারম্যানরা এ কথা জানান।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বছর মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর ফেলের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মানবিক বিভাগের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে।
এবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৮১ জনই পাস করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “মানবিকে এবার বিপর্যয় ঘটে গেছে। তারা ইংরেজি ও গণিতে খুব খারাপ করেছে। সেজন্য ফেলের সংখ্যাটাও মানবিকে বেশি। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ভালো করায় তাদের পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্তি ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিকে কেন এমন হলো, তারা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল কেন—তা খতিয়ে দেখা হবে। কীভাবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
কেকে/সাশ