মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আসাদের মৃত্যুদণ্ড      তারেক রহমানকে ব্রিকস ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছি : রণধীর জয়সোয়াল      ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট       রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি : চিফ হুইপ      বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী      চাঁদপুরে যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫      বিএনপির পরিকল্পনা-কর্মসূচি সবসময়ই জনবান্ধব : প্রধানমন্ত্রী      
শিক্ষা
২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১০ শিক্ষক, পাশ করেছেন একজন
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মাহিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষকের বিপরীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাস করেছেন একজন।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এ তথ্য জানা গেছে।

পাশ করা একমাত্র শিক্ষার্থী হলেন মানবিক বিভাগের বন্যা রানী রায়। তার প্রাপ্ত জিপিএ- ৩.৭০। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতের পরও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে শিক্ষার্থীর অর্ধেক শিক্ষক রয়েছে সেখানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাশ করলো। আর ১৯ জনেই করলো ফেল। 

জানা যায়, ১৯৬৭ সালে ১৮ বিঘা জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর এমপিওভুক্তি হয় ১৯৯১ সালে। বিদ্যালয়টিতে ১৪ বছর থেকে নেই ইংরেজি শিক্ষক। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সংকটও রয়েছে।
 
তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন এই বিশজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা একটু ভালো সেইসব ৮ জন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা আর স্কুলে আসেন নি। আমরা অসংখ্যবার তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানোর পরেও তারা ক্লাস করতে আসেনি। এমনকি ৬ষ্ঠ শ্রেণির অনেকেই শুধু ভর্তি হয়ে আছে তাদের অনেকেই বিদ্যালয়ে আসে না।

ধর্ম শিক্ষক বঙ্কিম চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার জন্য তাদের বাড়ি পর্যন্ত গেছি, তারপরও তারা স্কুলে আসেনা। পড়ালেখা না করলে তারা কিভাবে পাশ করবে।’ 

বিদ্যালয়ের ভৌত শিক্ষক শাপলা রানী রায় বলেন, ‘এখানকার অভিভাবকরা সচেতন না। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে পারিনি। অনেক শিক্ষার্থী নামেই ফরমফিলাপ করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় চাকুরি করে। পড়াশুনা তারা না করেই পরীক্ষায় অংশ নেয়। না পড়লে কিভাবে তারা পাশ করবে।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারা পদ রায় বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো ইংরেজি শিক্ষক নেই। ইংরেজি শিক্ষক না থাকায় পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। একজন ইংরেজি শিক্ষকের দরকার, শিক্ষক না থাকায় ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসেনি। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। শিক্ষক সংকট ছিল
সম্প্রতি নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর ভালো ফল করার আশা করছি।’

তবে ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় শিক্ষকদের পাঠদান ও নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের দাবি এমন ফলাফল কেন হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরল আমিন শাহ বলেন, ‘বিষয়টি উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ফলাফল বিপর্যয় কেন ঘটলো এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  এইচএসসি   পরীক্ষা   ফলাফল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close