ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট গভর্ন্যান্সের ঘাটতি, অনিয়মিত নিয়োগ ও শেয়ারবাজারে লেনদেনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির পরিচালক এএসএম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান ও সহকারী পরিচালক (এডি) মো. মতিউর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেকশনের এক আদেশে এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের স্বার্থে ও স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান প্রয়োজন।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার সদস্য নম্বর ১৪১’-এর উত্থাপিত অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করবে কমিটি। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট গভর্ন্যান্সের ঘাটতি ও অনিয়মিত নিয়োগের চর্চা।
এ ছাড়া ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও), জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও অন্যান্য কর্মকর্তার সিকিউরিটিজ লেনদেনে জড়িত থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুঁজিবাজারের এমন কোনো ব্যবসায়ে জড়িত কি না, যেখানে ডিএসই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
অভিযোগে ডিএসইর বিভিন্ন কমিটি ও ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠায় রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটি, রিস্ক অ্যাডভাইজরি কমিটি, নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ভূমিকা তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসইতে চুক্তিভিত্তিক পদ, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব পক্ষের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।
এ ছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’-এর ১৯ ধারায় বর্ণিত গোপনীয়তা বা সিক্রেসি ক্লজ ডিএসই ব্যবস্থাপনা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যথাযথভাবে পরিপালন করেছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় সামনে এলে সেটিও কমিটি বিবেচনায় নিতে পারবে।
বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’-এর ২১ ধারা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০’-এর ১৭ বিধির আওতায় এ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তাদের আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ তদন্তকে ডিএসইর প্রশাসনিক কাঠামো, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়োগ ও সিকিউরিটিজ লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেকে/এমএ