বাবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার মেয়ে শামারুহ মির্জা। এতে শৈশবের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি পরিবারের ভালোবাসা, জেলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং বাবার রাজনৈতিক পথচলার নানা দিক তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে বাবার মনোনয়ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন ফখরুলকন্যা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে শামারুহ মির্জা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আব্বু ফিরে আসেন ঠাকুরগাঁওয়ে। তখন আমি একদম ছোট। আমরা দুবোন সারাদিন খেলতাম। বিকাল হলেই আশপাশের বাচ্চারা আসত। আমাদের লনে খেলতাম বরফ-পানি, কাবাডি কাবাডি, সাতচাড়া, লুকোচুরি আর শীতকালে ব্যাডমিন্টন। আমার চাচাদের সঙ্গে খেলতাম দাবা। আসগর আলী স্যারের কাছে পড়াশোনা। আমার দাদি করতেন মহিলা সমিতি। দুপুরবেলা কখনো দাদির সঙ্গে যেতাম পুরোনো সিনেমা হলের পেছনে মহিলা সমিতির অফিসে। হাজার হাজার মিষ্টি স্মৃতি। আরেকদিন আমার ছোটবেলার গল্প করব।’
ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে পরিবারের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই শহর, এই জেলা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে আদরের। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন দেখার শুরু এই জেলায়। এই জেলার মানুষ আমাদের পরিবারের আত্মার আত্মীয়।’
বাবার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শামারুহ বলেন, ‘আমার আব্বা যখন পুরো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন আওয়ামী রেজিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়তে, এই জেলার বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী দুর্গ আগলে রেখেছেন। আমার নিজের ফয়সাল চাচা, পয়গাম চাচা এবং আরও অনেকে জান-প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা, সাহস, অর্থ ও শক্তি দিয়ে কাজ করেছেন। এদের হক অনেক উপরে।’
নির্বাচনি প্রচারণার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখন নির্বাচনি প্রচারণায় ছিলাম, প্রতিটি ইউনিয়নে দেখেছি সাধারণ মানুষ কীভাবে আমাদের পাশে থেকেছে। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাই বলেছি, আমার আব্বা আপনাদের আমানত। আপনাদের রক্ষা করেন, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শামারুহ। তিনি বলেন, ‘আজ জাতিসংঘ বলছে, দেশে উগ্রবাদীরা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। গত ১৫ বছরে হাসিনার কূটপরিকল্পনার কারণে দেশে উগ্রবাদের চাষ হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইউনূস সরকারের সময় এরা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রচুর প্রশ্রয় পেয়েছে। কিন্তু বড় বিপদ হওয়ার আগে এখনই সাবধান হতে হবে।’
নিজের বাবার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার প্রসঙ্গে শামারুহ বলেন, ‘আমার আব্বা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার প্রাণপ্রিয় দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। আজকে আমার দাদা-দাদির কথা খুব মনে হচ্ছে।’
সবশেষে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন আমৃত্যু আপনাদের জন্য কাজ করতে পারেন। আপনাদের ঋণ আমাদের পরিবার কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।’
কেকে/এলএ