শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ১৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তায় মাঠে থাকছে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট      আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান      সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯      ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ      ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের স্বত্ব নেই: হাইকোর্ট      আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নতুন দিগন্তে চট্টগ্রাম ওয়াসা      দলের কাণ্ডারি থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবক      
শিক্ষা
উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে আধুনিক রিসোর্স বুক ও ডিজিটাল কনটেন্ট অপরিহার্য
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সকে আরও যুগোপযোগী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মমুখী করতে মানসম্মত রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল ও অনলাইন কনটেন্ট উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেছেন, “বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি শুধু একটি বিষয় নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে এটি নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তারা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারে।”

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার সাভার উপজেলার ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের জন্য ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এএসএম আমানুল্লাহ এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

অনুষ্ঠানে ভিডিস আরও বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, তাদের শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল চূড়ান্ত করতে হবে। কনটেন্টের ভাষা হতে হবে সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব। আমরা চাই, স্বল্প মেধার একজন শিক্ষার্থীও যেন খুব সহজে বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে পারে। বৈষম্য কমিয়ে শিক্ষার সুযোগকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

“জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম অংশকে ধারণ করে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এর অধিভুক্ত কলেজের বিস্তৃতি রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে একই মানের সময়োপযোগী শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া আমাদের বড় দায়িত্ব। এমন শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করতে হবে, যা একজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি বুঝতে, প্রয়োগ করতে এবং নতুন কিছু করতে উৎসাহিত করবে। শেখার অভিজ্ঞতা হতে হবে সহজ, আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী।”

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। তাই অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির চাহিদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানেও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে এবং অর্জিত জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে—সেভাবেই বিষয়বস্তু তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং ও গিগ ইকোনমির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্র, ফ্রিল্যান্সিং ও আয়মুখী কাজের সঙ্গে যুক্ত করা। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে কাজের সুযোগ তৈরি করতে এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
 
ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভিসি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম, রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল ও ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়মিত হালনাগাদ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবে এবং তাদের ডিজিটাল দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

কর্মশালার প্রথম দিনে রিসোর্স বুকের প্রতিটি অধ্যায় ও টপিকের বিষয়বস্তুর যথার্থতা, শিক্ষার্থীদের উপযোগিতা, প্যাডাগজিক্যাল পদ্ধতি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। বিষয়বস্তুকে আরও সমৃদ্ধ, সহজবোধ্য ও প্রায়োগিক করতে বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশ করেন। পরবর্তী দুই দিনে এসব মতামতের ভিত্তিতে রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল ইসলাম, আইসিটির (কারিকুলাম) ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমা তারা, ইউনিসেফের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনম ও ইস্তানুল কবির।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করা   আধুনিক রিসোর্স বুক   ডিজিটাল কনটেন্ট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close