মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হক ধর্ষণ মামলায় জেলে যাওয়ার পর কলেজ গভর্নিংবডি সাময়িক বরখাস্ত করে। তিন মাস জেল কাটার পরও বরখাস্ত প্রত্যাহার হয়নি প্রভাষক আজিজুল হকের। এর পরেও গত প্রায় ১৪ বছর উক্ত কলেজে বহাল তবিয়তে আছেন।
নিয়মিত উত্তোলন করছেন বেতন ভাতা,পাচ্ছেন সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা। তবে প্রভাষক আজিজুল হক বলেন আওয়ামী লীগ শাসনাআমলে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে, দলের শীর্ষ স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে এ সব থেকে পার হয়েছেন বলে রয়েছে একাধিক অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক বলেন, ‘প্রভাষক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর গর
গভনিংবডির সিন্ধান্ত মোতাবেক আমার স্বাক্ষরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আজিজুল ভুক্তভোগীর মামলায় তিন মাস জেল কাটার পর আওয়ামী লীগের দাফট দেখিয়ে বেতন বিল ও সকল কার্যক্রম চালিয়ে যায়। তবে আমার জানামতে আজিজুলের সাময়িক বরখাস্তটি এখনও প্রত্যাহার হয়নি।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাষক আজিজুল হক নিজ বাসায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি প্রাইভেট পড়াতেন। গত ২০১২ সালে ৮ নভেম্বর শিক্ষক আজিজুল হক দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ বাসায় ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রী কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর ২১ নভেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে এনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে কলেজ অধ্যক্ষ ২৬ নভেম্বর গর্ভনিংবডির উপস্তিতে একটি রেজুলেশন করে প্রভাষক আজিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর আগে কলেজ শিক্ষার্থী ২৪ নভেম্বর আজিজুলের বিরুদ্ধে ধর্ষর্ণের অভিযোগে এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মদন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৫/১০৪। উক্ত মামলায় আজিজুল কলেজেই গ্রেফতার হন। পরে তিনি তিন মাস জেল কাটেন।
জেল থেকে বের হলেও তৎকালীন গর্ভনিংবডি তার সাময়িক বরখাস্তটি প্রত্যাহার করেনি। প্রভাষক আজিজুল হক আওয়ামী লোকজনকে দিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে দলীয় প্রভাবকাটিয়ে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি কোনো ধরনের আমলে না নিয়ে নিয়মিত বেতন ও সরকারি সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে যাচ্ছেন।
কলেজ গত ২০১৩ সালের ১৪ মে জাতীয়করণ করা হলেও এখনও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নিতে পারেনি কোনো পদক্ষেপ। এতে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মদন কলেজের সাবেক প্রভাষক ও বর্তমান নেত্রকোনার সরকারি কলেজেরে দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম জানান, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হককে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই রেজুলেশনে আমিসহ আরও ২০ জন স্বাক্ষর করে ছিলাম। আমার জানামতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি। এখনও সে কিভাবে বহাল তবিয়তে আছে এটাই আমিসহ সকলের প্রশ্ন।
ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হক ধর্ষণ মামলায় তিনমাস জেল কেটেছেন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ মামলায় তিন মাস জেল কেটেছি এবং এ মামলা থেকে খালাস পেয়েছি। কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনাকে সাময়িক বহিষ্কার করে, এখনও তা প্রত্যাহার হয়নি।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে আপনি বেতন ও সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বহিষ্কার করতে হলে প্রথমে পরপর তিনটি কারণ দর্শাণেরার নোটিশ দিতে হবে। তারা কোন নোটিশ দেয়নি। আমাকে যে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এ চিঠিও আমি পাইনি। আমার একদিনের বেতনও বন্ধ হয়নি। সুতরাং কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে কেন? তাছাড়া জাতীয়করণের সময় বিভিন্ন স্থানে তারা আমার এ অভিযোগ গুলো দিয়েছে। কিন্তু তদন্তে সব কিছুতেই আমার নামে পজিটিভ দিয়েছে। সুতরাং আমি সব কিছুতেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।’
কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্ত্র মিত্র বলেন, ‘আমি এখানে কয়েক মাস হল যোগদান করেছি। তা ছাড়া ঘটনাটি হল সরকারি করণের আগে। তবে আমার জানামতে কোনো প্রভাষক যদি এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সে অটো সাময়িক বরখাস্ত হয়ে যায়।’
কেকে/এআই