২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোটের সমীকরণে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দলের আসন সংখ্যার হিসেবে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল। জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জাতীয় সংসদের সাধারণ আসন ও সংরক্ষিত মিলে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর মোট আসন বিএনপির তুলনায় অনেক কম। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সংখ্যার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত।
সংসদে সাধারণ আসন ও সংরক্ষিত মিলে বিএনপি-২৪৭ জন, জামায়াতে ইসলামী-৭৭ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-৮ জন, স্বতন্ত্র-৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-৩ জন, অন্যান্য ছোট দল মিলিয়ে-৬ জন।
সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসেব ধরলে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে ১৭৫ ভোট পেলেই একজন প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে ওপেন ব্যালটে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটে প্রার্থীর নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ফলে কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকবে না। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় হিসাবের সঙ্গে ভোটের ফল কতটা মেলে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দিতে পারবেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন, তাই তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা হবে। গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
কেকে/এআই