মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘সারাদেশের প্রান্তিক জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ মানিকগঞ্জ জেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এসে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রান্তিক খামারিরা যাতে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারেন, খাল খননের পাশাপাশি মৎস্য খামার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-র আওতায় সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জনবান্ধব দল বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, জনগণ ভালো থাকে। আজ যাদের বকনা বাছুর বিতরণ করা হচ্ছে, এগুলো যদি ঠিকভাবে লালন-পালন করা হয়, একসময় তারা খামারিতে রূপান্তরিত হবেন। নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। এ জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার খুন-গুম করেছে। শিশু-বাচ্চাদের পর্যন্ত হত্যা করেছে। সেই সরকার জালেম, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিতাড়িত করেছে। আজকে তারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে আবার আসতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ফাঁসির রায় কার্যকর করতে চায়। যে পরিমাণ খুন-গুম করেও কোনো অনুশোচনা নেই, তাকে দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনুশোচনা না করে হুমকি-ধামকি দেওয়া শুরু করেছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে এ দেশের জনগণকে কি রোধ করা যায়? যাবে না। এ দেশ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যতবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ততবার গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন করেছে।’
তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই যেন এ দেশে করতে না পারে। আমরা যদি সজাগ থাকি, ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের ২৫ জন সুফলভোগীর মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
কেকে/এআই