দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং ডলার সাশ্রয়ে ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নতুন পরিকল্পনার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোই এ ভাবনার মূল উদ্দেশ্য।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সাংসদ সাবিকুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
তবে এ সংক্রান্ত যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প গ্রহণ করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের যথাযথ পুনর্বাসন ও জীবিকা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফুলবাড়ীর কয়লা বিশ্বের অন্যতম সেরা মানের কয়লা। আমরা যদি এ কয়লা উত্তোলন করে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পারি, তাহলে তা অবশ্যই দেশের জন্য ভালো হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।’
সাংসদ সাবিকুন নাহার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ ও জীবিকার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নেবে। আমরা রাজনীতিবিদ এবং আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে ওই এলাকার কৃষিজমি ও বসতিতে প্রভাব পড়বে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কীভাবে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা যায়, তা আগে পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে তাদের আয় ও জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষ কীভাবে এর সুফল পেতে পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা এসব বিষয় পর্যালোচনা করব এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেব।’
এর আগে সাবিকুন নাহার সতর্ক করে বলেন, ‘কয়লা উত্তোলন বাড়ালে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়তা হতে পারে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।’
সাংসদ সাবিকুন নাহার বলেন, ‘প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প নিয়ে বছরের পর বছর ধরে উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যুক্তিতে কৃষিজমি ধ্বংস, হাজারো মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না।’
প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার আগে তিনি ব্যাপক পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কেকে/এআই