জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে পারলে ভবিষ্যতে বিশ্বে বাংলাদেশই নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান সম্পদ হলো মেধাবী তরুণসমাজ। তাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ ও মেধাবীদের গুরুত্ব দিতে হবে।’
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘স্কাউটিং জনসেবার মনোভাব ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরির মাধ্যমে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে শেখায়। স্কাউটিং থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। কীভাবে জনসেবা করতে হয়, নেতৃত্ব দিতে হয়; জনগণকে ভালবাসতে হয়; দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে হয়, সেটা স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শেখা যায়। তাই আজ যারা স্কাউট করছেন, তারা একসময় নেতৃত্বের আসনে বসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই মাদকমুক্ত ও নৈতিকতা গুণসম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তুলতে। এজন্য বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার উন্নয়নে স্কুল ড্রেস বিতরণ, সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিডডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নে খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষাকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্কাউটসের উন্নয়নে একটি পৃথক স্কিম গ্রহণ করা হয়েছে।’
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমাদের প্রধান সম্পদ হলো মেধাবী তরুণ সমাজ। তাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ ও মেধাবীদের গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের যে জনসংখ্যা রয়েছে, তাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারলে ভবিষ্যতে আমরাই বিশ্বে নেতৃত্ব দেবো। এজন্য আমরা নতুন প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছি।’
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদেরকে সার্টিফিকেট (অভিনন্দনপত্র), মেডেল ও দুই হাজার টাকা নগদ অর্থ দেওয়া হয়।
কেকে/এআই