আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’। দিবসটির আহ্বান—‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে কথোপকথন শুরু করা।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশে ২০২১ সালে আনুমানিক ৪ হাজার ৭১৪ জন আত্মহত্যায় মারা গেছেন।
এদিকে দেশে তরুণদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি এক লাখ তরুণের মধ্যে প্রায় ১৮ জন আত্মহত্যায় মারা যান। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৯ জনে দাঁড়ায়। এক বছরে মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সংকটে থাকা ব্যক্তির কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা, তাকে একা না রাখা এবং দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা জরুরি।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের বহু খাতভিত্তিক জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও নীতিগত পরিবর্তনও প্রয়োজন।
কেকে/ এমএস