ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে ওঠার শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে টাইগাররা। ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৯ রানেই আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়, শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন।
দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ব্যাটারদের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দলটি। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ ও সাইফ হাসানের ৪১ রানের ওপর ভর করে ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দলীয় ৩৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে বোল্ড করেন তিনি। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে দ্বিতীয় সাফল্য পান এই পেসার।
তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আফগানিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দিলে মিডউইকেটে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্তভাবে বলটি তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রহমত শাহ। ৬৬ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করা আফগান অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার টিকিটও নিশ্চিত করে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মুস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। এরপরও হাল ছাড়েননি পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেওয়ার আশা জাগায়।
ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭০ রান করেন। সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১ রান, যেখানে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁদের এই জুটিই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৫ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং প্রতিপক্ষের দুই উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার পরও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশার হার নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।
কেকে/সাশ