চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগে মাসুম খান রাজেশকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার অধীন বিএনপির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজেশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।’
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকাতেও রাজেশের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে চাঁদাবাজির দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন। এ ছাড়াও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর, ধানমন্ডির এক অংশে বেশ কিছু তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫২-৫৫ জন ব্যক্তি নজরদারিতে রয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একটি সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও যখনই কোথাও অপরাধ ঘটবে, চাঁদাবাজির তথ্য মিলবে তখনই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও এলাকাটিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিশ্বস্ত সূত্র। জানা গেছে, যেখানেই অপরাধ হবে সেখানেই অনুসন্ধান করে অপরাধীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান স্বপনকে চলতিমাসের (৫ অক্টোবর) শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে এসআরবি-২ তাকে আটক করে। গার্মেন্টস, ফুটপাত, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকাতে তাকে আটক করে শেরেবাংলা থানায় হস্তান্তর করে এসআরবি। পরবর্তী তিনি জামিনে বের হন।
বিএম ইব্রাহিম ওরফে তালা ইব্রাহিমকে ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সেনাবাহিনী ও র্যাব পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও আদাবর এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কার নেতা জাহিদ জনকে (১৯ অক্টোবর) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
এছাড়াও অপরাধের তালিকা ভুক্ত কয়েকজনকেও আটক গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকা থেকে বিএনপির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাজেশ খানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
মোহাম্মদপুর এলাকাটি একাধিক অপরাধের ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়ায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমন করত ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এলাকটিতে অপরাধ দমন করতে কাজ করছেন এসআরবি-২ পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ।
কেকে/এআই