ফরিদপুর জেলা থেকে বজ্র প্রতিরোধক তালগাছ হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকারী তালগাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। তালগাছ পরিবেশ ও প্রকৃতি শুধু বন্ধুই নয়। মানুষের কল্যাণে এর জুড়ি নেই। তাই তো তালগাছ নিয়ে রচিত হয়েছে বহু কবিতা-গান।
ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিগত দিনে রাস্তার দুপাশে, পুকুর পাড়ে, ভিটায় ও বসতবাড়ির আশপাশে সারি সারি তালগাছ দেখা যেত। তালগাছ থেকে রসাত্মক ফল, রস, তালের পিঠা, তালের শাঁস বাঙালির প্রতিঘরে সববয়সের মানুষের প্রিয় খাবার ছিল। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে তালগাছ দিয়ে ডোঙা নৌকা তৈরি করে বর্ষার মৌসুমে যাতায়াত করতো এলাকায় মানুষ এবং ঘর তৈরিতেও ছিল তালগাছের কদর।কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
জানা যায়, তালের আদি নিবাস মধ্য আফ্রিকা। গুচ্ছমূলী বৃহৎ অশাখ বৃক্ষ তাল, গাছের গোড়ার দিক মোটা, ওপরের অংশ তুলনামূলক চিকন, কান্ডো মাথায় বোঁটা ও পাতা গুচ্ছভাবে সাজানো থাকে ও বোঁটার দুই ধারে করাতের মতো দাঁত আছে। বোঁটা শক্ত ও পুরু। গাছ উচ্চতায় ২০ থেকে ২৫ মিটার হয়ে থাকে এবং দীর্ঘজীবী উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম তাল। ১৪০ থেকে ১৫০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকে এই গাছ।
ফল দেয়া ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে মানুষকে। বর্তমান সরকার তাল গাছ রোপণের উপর জোর দিলেও এক শ্রেণির মানুষ কাটার মহোৎসবে মেতে উঠেছে। নানা কারণ দেখিয়ে রাস্তার পাশের ও ব্যক্তি মালিকানাধীন তাল গাছ কেটে বিভিন্ন করাতকলে বিক্রি করছে।
মঞ্জু মোল্লা জানান, একসময় বসত বাড়ির উঁচু জমিতে,জমির আইলের উপর পরিত্যক্ত জায়গায় তালের গাছ দেখা যেতো। কিন্ত কালের বিবর্তনে তালগাছ সহ বিভিন্ন ধরনের গাছ কেটে উজাড় করে দিয়ে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি তৈরি করেছেন। এখন আর তালগাছ চোখে পড়েনা তালগাছ। এছাড়া তাল গাছের একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটার চুলায়।
রাব্বি মিয়া বলেন, বিগত সময়ে ঘর নির্মাণে তাল গাছ ব্যবহার হতো। তালগাছের পাইড়-রুয়া ছিল অনেক মজবুত। সকলেই ঘর তুলতে তালের আড়া, পাইড় ও রুয়া ব্যবহার করত। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কালের বিবর্তনে এখন অনেকেই তালগাছের ব্যবহার করে না বললেই চলে।
স্থানীয়দের মতে,বিগত দিনের চেয়ে বর্তমানে দেশে বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর তাল থাকলে সেগুলো বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো যাবে বলে মনে করেন অনেকে।
কেকে/ এমএস