সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      
অর্থনীতি
অযৌক্তিকভাবে চিনি-এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র নিন্দা ক্যাবের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০১ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চিনি, এলপিজি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সাথে এই দাম কারসাজির সাথে জড়িত সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করে ক্যাব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে চিনি, এলপিজি, সয়াবিন ও পাম তেলের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম হতাশা, উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
 
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আমদানি, মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি প্রভাবশালী চক্র চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এক সপ্তাহ আগেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা চিনির দাম বর্তমানে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা।

ক্যাবের অভিযোগ, সাদা চিনির আমদানি কার্যত বন্ধ থাকা এবং মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজার অস্থির করা হচ্ছে। প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে চিনির দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যায়, এবারও সেই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

চিনির পাশাপাশি সয়াবিন ও পাম তেলের দামও সম্প্রতি প্রতি লিটারে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হলেও দাম কমার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোনো আগ্রহ দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেছে ক্যাব।

এছাড়া এলপিজির ক্ষেত্রেও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির অজুহাতে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের একটি অংশ বাজারে কারসাজি করছে বলে ক্যাব মনে করছে।

ক্যাবের মতে, রমজান ও আসন্ন বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট চক্র পরিকল্পিতভাবে বাজারে কারসাজি করছে। প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য নেই। এটি বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবেরই প্রতিফলন।

এই পরিস্থিতিতে ক্যাব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ৭ দাবি জানিয়েছে- মিল পর্যায়ে চিনি উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করা; চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় বাজারমূল্যের মধ্যে যৌক্তিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা; পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের অযৌক্তিক ব্যবধান কমাতে কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করা; এলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ গ্রহণ; এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং ৭) নির্বাচন বা অন্য কোনো অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি যেন শিথিল না হয়—সে বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

দ্রুত কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে চিনি ও এলপিজি সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের চলমান অস্থিরতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্য ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছে সংগঠনটি।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চিনি   এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি   নিন্দা   ক্যাব  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close