ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের ভৌগোলিক অবস্থান আর দৃষ্টিনন্দন ভবন, উন্মুক্ত পরিবেশে সর্বসাধারণের সন্তোষ থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। একদিকে অনলাইন পদ্ধতি ও সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে মেলা না-জমার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত উদ্যোক্তা তৈরি ও উৎসাহদানের ঘোষণা থাকলেও মেলা জুড়ে দেখা যায়নি তরুণদের কোন স্টল বা প্যাভিলিয়ন। ফলে, তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের শুরুতে লোকসমাগম কম। তবে পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল না খুব একটা। বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবে দিনভর স্থানীয়দের আনাগোনা থাকলেও এ বছর স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী বা ক্রেতা হিসেবে এখনো মেলায় ঢোকেন নি বেশির ভাগ বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা সিপন মিয়া বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে বাড়ির পাশেই মেলা হচ্ছে। এটা আমাদের রূপগঞ্জের জন্যে গর্বের বিষয়। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এবার অংশ নেয়নি। শুনেছি, তরুণরাও কোন স্টল পায়নি। অথচ প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাণিজ্য মেলায় এমনভাবে শুধু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের ভৌগোলিক অবস্থান ঢাকা বাইপাস সড়ক ও ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। পাশেই বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। আশপাশে রয়েছে গ্রাম অঞ্চল। যা রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়নের মধুখালী, ব্রাহ্মণখালী, শিমুলিয়া, মাঝিপাড়া, কালনী, গুতিয়াবোসহ অসংখ্য গ্রাম। আশপাশের গ্রামগুলোতে রয়েছে হস্তশিল্পের কারিগর ও তাদের পল্লী, তারাবো পৌরসভা ও কাঞ্চন পৌরসভায় তাঁত ও জামদানি শিল্প সুনামধন্য পণ্য। নদী পাড়ের পাটকল আর পাটজাত পণ্যেরও সমাহার রয়েছে এখানে। তবে মেলায় এসব পণ্য নিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারেননি নানা জটিলতায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় আসরের আশপাশে রয়েছে কাঞ্চনের তাঁত শিল্প, ভুলতা, গাউছিয়ার পাওয়ারলুম শিল্প, গুতিয়াবোর বাঁশ শিল্প। কিন্তু সংশ্লিষ্টের কেউই মেলায় স্টল পায় না। এসব স্টল হাত বদল হতে হতে মূল্য বাড়ে আকাশ ছোঁয়া। ফলে চাইলেই কেউ স্টল পেতে লোকসান ঝুঁকি নিতে চায় না। অথচ মেলায় একই ব্যক্তির ১০টার বেশি স্টল দেখা গেছে।’
মধুখালীর বাসিন্দা মোক্তার হোসেন বলেন,
মেলা ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোতে রয়েছে নিম্নমানের পণ্য। আবার এসব পণ্যের দাম বেশি হাঁকাচ্ছে। আর বাইরে হকারদের হাঁকডাক পুরো পরিবেশে বিতর্কের জন্ম দেয়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, ‘মেলায় এবার যাতায়াত ব্যবস্থা খুব ভালো। তবে মেলার পাশের ঢাকা বাইপাস সড়কে ধুলো-বালির ভোগান্তি ছিলো। মেলায় বেশিরভাগ নিম্নমানের পণ্য। যাতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, পুরোমাস উৎসবমুখর থাকবে মেলা। পরবর্তী সব আয়োজন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাসহ সারাদেশের উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার টিম ও ম্যাজিস্টেটরা নিয়োজিত আছেন। কোন অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেলার তথ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এবার প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৯৬ টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৭টি, জেনারেল স্টল, ফুডকোর্ট, মিনি স্টল, প্রিমিয়ার স্টল প্রায় ১৫৫টি। এছাড়া মূল প্যাভিলিয়নের বাইরে খোলা স্থানে আরও ১২-১৫টি ফুড স্টল রয়েছে। এবারও বাণিজ্য মেলায় ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিদেশি ৮টি স্টলে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে।
কেকে/এমএ