তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রধান ফটকে প্রবেশ ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের দুর্ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ ওঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) মেলার চতুর্থ দিন মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় থাকা ভারতীয় স্টলে দর্শনার্থী কম। যদিও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইরান, মালয়েশিয়া,পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার স্টলগুলোতে দেখা গেছে কিছু দর্শনার্থী। ভারতীয় স্টলগুলো প্রায় ফাঁকা। প্রতিদিনের মতো পণ্যের মূল্য ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। তারা কিনছেন গৃহস্থালি পণ্য।
প্রধান প্রবেশ ফটকের কাছেই রয়েছে দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম প্রিমিয়াম স্টল। ভেতরে ঢোকতেই চোখে পড়ে ক্রেতা আর বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততা। তবে ওই স্টলে প্রায় ২০ মিনিটও কোণ পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়নি।
মেলায় ঘুরতে আসা হাটাবো এলাকার বাসিন্দা সৈকত বলেন, ‘বাংলাদেশের সাথে ভারতের চলমান বৈরী সম্পর্কের প্রভাবে তাদের পণ্যে অনীহা আছে। কিন্তু পণ্য ভালো। কারণ আমরা দুই দেশের সুসম্পর্ক চাই। তবে, কেনাকাটা আগের তুলনায় কমেছে।’
একই স্টল দেখতে আসা নলপাথরের বাসিন্দা ইমরান ভুঁইয়া বলেন, ‘মনে হচ্ছে ঢাকার জিঞ্জিরায় তৈরি সব পণ্য দিয়ে সাজানো স্টলগুলো। আবার ভারতের বলে দাম বেশি চাচ্ছে। এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মেলার প্রবেশ ফটক থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে পার্কিং ব্যবস্থা থাকা আর ফটকে থাকা কর্মচারীদের দর্ব্যবহারের কারণে দর্শনার্থীরা ভুগছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীপন গ্রুপের ম্যানেজার হৃদয় মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মেলার মূল প্যাভিলিয়নে জুতা, কসমেটিক্স, কাপড়, চাদর ও হস্তশিল্পসহ বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। কোথাও দুয়েকজন দাঁড়িয়ে দেখলেও পণ্য কিকেত দেখা যায়নি। কয়েকজন বিক্রয়কর্মী হিন্দিতে ডেকে ডেকে তাদের স্টলে নজর কাড়তে চেষ্টা করছে।
আসাম থেকে আসা ভারতীয় আকাশ মনি বলেন, ‘এ দেশের নাগরিকদের সাথে আমাদের সৌহার্দ্যতা রয়েছে। দুই-চারজন উগ্রবাদি উভয় দেশের নাগরিকের জন্যে কোন প্রভাব পড়বে না। তবে মেলায় কেনাকাটা শুরু হয়নি। আশা করি আরও জমবে। বিক্রিও বাড়বে। তবে অপপ্রচারের কারণে সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে।’
সার্বিকভাবে, ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবের পাশাপাশি প্রবেশ ব্যবস্থাপনা, পার্কিং সংকট ও কর্মীদের দুর্ব্যবহার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ও কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতীয় স্টলগুলোতে ক্রেতার আগ্রহ কম থাকলেও অন্যান্য দেশের স্টলগুলোতে সীমিত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পণ্যের দাম ও মান নিয়ে প্রশ্ন, পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঘিরে তৈরি ভুল বোঝাবুঝিও ক্রয়-বিক্রয়ে প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মেলার প্রাণচাঞ্চল্য ও বাণিজ্যিক সফলতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
কেকে/এমএ