ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোডম্যাপে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবারের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং বুধবার (২২ জানুয়ারি) চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ পাবে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধানাবলী অনুসরণ, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন এবং নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের আনুষঙ্গিক খাতে প্রদত্ত অর্থের ব্যয় নির্বাহ সংক্রান্ত ও বিবিধ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রাপ্তি হবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ই-মেইল প্রেরণ ও যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজে তদারকি করার জন্য দায়িত্বসংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হবে। নির্বাচনি কাজে ব্যয় নির্বাহের জন্য মাঠপর্যায়ে দ্বিতীয় পর্বে অর্থ বরাদ্দ ও মঞ্জুরি, ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেটে প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে প্রেরণ করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী দাখিল, ব্যয় বিবরণী দাখিল না করার শাস্তি, নির্বাচনের সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ ও জাল ভোট রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি, ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা, পুনঃভোটগ্রহণ, পুননির্বাচন, প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসংবলিত পোস্টার প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার এবং ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে ফলাফল প্রেরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও সরবরাহ, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ ও যাচাইকরণ করা হবে।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচনি সামগ্রী যাচাইকরণ, ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের সিলের গোপনীয়তা রক্ষা, ভোটদান পদ্ধতি, ভোটগণনা, ফলাফল একত্রীকরণ, সমভোট, একত্রিকরণের পর পুনঃসিল গালাকরণ, নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধের সময়সীমা ও বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় দলের গঠন সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে ব্যালট পেপার মুদ্রণের জন্য গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসকে মুদ্রণাদেশ প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যাচাই-বাছাই করা হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তাবিত অর্থের চাহিদা এবং নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেওয়া হবে।
এরপর শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্থ বরাদ্দ ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচনের ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে রবিবার (২) ও সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি)।
তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণা বুধবার (২২ জানুয়ারি) শুরু হয়ে চলবে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)।
কেকে/এলএ