সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদকে আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে অপসারণ চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবরও আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ ব্যক্তি জীবনে একজন দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ফেনীর ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ফেনীর ডিবির ওসি, ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক, কক্সবাজারের ডিবির ওসিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনেক এমপি মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলো তার সখ্যতা। সম্পর্ক বজায় রেখে কামিয়েছেন অঢেল অর্থ। গড়েছেন বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট। সরকার পতনের পর তিনি কৌশলে ভাগিয়ে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালকের পদ।
নাসির উদ্দিন একজন চতুর মানুষ। বর্তমানে নিজেকে বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিলেও আওয়ামী লীগ আমলে পরিচয় দিতেন আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের সাবেক এমপির লোক হিসেবেও নিজেকে জাহির করতেন।
নাসির উদ্দিন যেখানেই চাকরি করেছেন সেখানে রেখেছেন দুর্নীতির ছাপ। ফেনীতে দীর্ঘদিন চাকরির সুবাধে সেখানে গড়ে তুলেছিলেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য। বিএনপি-জামায়াত দমনে তিনি ছিলেন কঠোরহস্ত। ফেনীর অসংখ্য বিএনপি-জামায়াতের নেতাকে তিনি জেল খাটিয়ে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন।
নাসির উদ্দিন সুযোগ পেলেই কক্সবাজার যাতায়াত করেন। সেখানে তার ফ্ল্যাট ও ব্যবসা রয়েছেন। কক্সবাজারের ডিবির ওসি থাকাকালে তার সাথে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও সাইমুম রহমান কমলের সখ্যতা গড়ে উঠে। তাদের অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।
নাসির উদ্দিনের মতো একজন দুর্নীতিবাজ ও লোভী পুলিশ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালকের পদে আসীন থাকায় সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। অনেক অপরাধী তাকে ম্যানেজ করে বের হয়ে যেতে পারে আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনালের জাল থেকে। তাই তাকে আন্তর্জাতিক আপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে অপসারণে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি কামনা করা হয়।
কেকে/ এমএস