তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।
রোববার (২ আগস্ট) বগুড়ার মম ইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা বাস্তব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী উদ্যোগ। নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন করে অংশগ্রহণ করবেন। দুই মাস মেয়াদি প্রতিটি কোর্সে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী আটজন ফ্রিল্যান্সারের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ২৪ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
কেকে/ এমএস