চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় আসে ২৮৬ কোটি ডলার। পরের মাস আগস্টে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর সেপ্টেম্বরের ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারসহ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে এলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়ে। এতে আমদানি ব্যয় পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডি নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ার ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে।
এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ওই অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় আসে। এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ডও হয়েছে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সেই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/সাশ