২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২’-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সাংসদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
গেল ১৮ জানুয়ারি এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের ৩টি অভিযোগ পড়া হয়। এছাড়া সবার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন প্রসিকিউশন। পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।
এর পূর্বে, গেল ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ৭ আসামিরই আত্মসমর্পণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারা হাজির হননি। এছাড়া পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনার কথা ছিল। তবে স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরে ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এদিকে, জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গঠিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
কেকে/এমএ