ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৯৮১ কোটি টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদক সূত্র।
জানা গেছে, দুদকের উপ-পরিচালক (বিসি অনু. ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে দাখিল করা অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে অনিয়মসংক্রান্ত চারটি অভিযোগ একত্রে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘এসব নথি পর্যালোচনায় দুদকের প্রাথমিকভাবে ধারণা হয়েছে, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে আইপিপি রেটের সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাসের ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং কর্ণফুলী গ্যাসের ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করেনি। দুই প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।’
অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান শেষ হলে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কেকে/এমএ