মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
অর্থনীতি
চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ারের সফল সমাপ্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চার দিনব্যাপী ১৮তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার-২০২৬ (আইপিএফ-২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সক্ষমতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এই মেলার সফল সমাপ্তি ঘটে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এ প্লাস্টিক ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, উপ-প্রকল্প পরিচালক (ইসি৪জে) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, বিপিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. এস. এম. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিজিএমইএ’র সভাপতি শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সহআয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোং লিমিটেডের ওভারসিজ ডিরেক্টর আকাই লিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার এখন একটি সুপরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ মেগা ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ১৮-২০টি বিদেশি দেশের অংশগ্রহণে এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক, বিপণনকারী ও রপ্তানিকারকদের উপস্থিতিতে এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। এ ধরণের মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বাধুনিক প্লাস্টিক প্রযুক্তি, পণ্য ও যন্ত্রপাতির পরিচিতি তুলে ধরা এবং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পণ্যের কার্যকর প্রচার ও ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত জরুরি।” 

তিনি দ্রুত প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিপেট (বিআইপিইটি)-কে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন সম্ভাবনাময় প্লাস্টিক সাব-সেক্টর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

কমপ্লায়েন্স বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি এখন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নভেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্লাস্টিক শিল্প লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিক্স খাতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বিশ্বব্যাপী সার্কুলার ইকোনমি ও রিসাইক্লিং বাজারের আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, অথচ বাংলাদেশ এখনো এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় অংশ রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আইপিএফ-২৬ প্রমাণ করেছে যে—প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পগুলো কৃষি, তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, ই-কমার্স এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।”

তিনি বলেন, “১৮টি দেশের অংশগ্রহণ, ৭০০-এর বেশি স্টল এবং বিশাল প্রদর্শনী এলাকা নিয়ে আইপিএফ-২৬ বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে। গত এক দশকে প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে যে অগ্রগতি হয়েছে—তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন এই মেলায় দেখা গেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অটোমেশন, রিসাইক্লিং প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার শিল্পের ইতিবাচক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। উদ্যোক্তারা এখন দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান, কমপ্লায়েন্স ও টেকসই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা শিল্প বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।” তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুণগত মান, উদ্ভাবন ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিপিজিএমইএ সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আইপিএফ-২৬ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; এটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার একটি মিলনমেলা। এই মেলা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং জোরদার করেছে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করেছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী বক্তব্যে মেলার সহআয়োজকের পক্ষে আকাই লিন, ওভারসিজ ডিরেক্টর, চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোং লিমিটেড, দেশি ও বিদেশি সকল প্রদর্শক, অংশগ্রহণকারী, স্পনসর, অংশীদার এবং দর্শনার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। 

তিনি আইপিএফ-২৬ সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিপিজিএমইএ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং সকল স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্লাস্টিক শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও টেকসই উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার   আইপিএফ-২৬  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close