সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৬১      আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক      স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর      ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর স্থগিত      আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ      
ফিচার
ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্তরে কমলা-লাল রঙের আভা ছড়াচ্ছে পলাশ ফুল
ফরিদপুর প্রিতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে এখন পলাশ ফুল তার কমলা-লাল রঙের আভা ছড়িয়ে অপূর্ব শোভা ধারণ করেছে।
এরই অংশ হিসেবে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্তরে পলাশ ফুলের রঙিন আভা দ্যুতি ছড়াচ্ছে আঙিনাজুড়ে। লাল-কমলা মিশ্রিত উজ্জ্বল রঙের এই ফুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব শিল্পকর্ম। চারদিকে বসন্তের আমেজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে রোপিত গাছে ফুটে থাকা পলাশ ফুল পরিবেশে এক অনন্য সৌন্দর্য যোগ করেছে।

এটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘Butea monosperma’। তবে পলাশ নামেই পরিচিতি বেশি। ইংরেজিতে এর নাম parrot tree। পলাশ একটি বৃক্ষ জাতীয় ফুল গাছ। উচ্চতা গড়ে ১৫ মিটার। এই গাছের শাখা-প্রশাখায় থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। ফুল দেখতে অনেকটা বাঘের নখের মতো। এবং সম্মুখে চওড়া পাপড়ি, পেছনে দুটি ডানার মত ছড়ানো এবং দুটি একত্রে বাঁকানো, পাখির ঠোঁটের মতো অরণ্যের অগ্নিশিখা পলাশ।

এছাড়া রয়েছে আরও কত বাহারি রকমের নাম যেমন কিংশুক, পলাশক, বিপর্ণক। বাংলা সাহিত্যে পলাশের প্রভাব অতিশয়। গানে, কবিতায় কোথায় নেই পলাশ? তবে শুধু এ কালের সাহিত্য নয়, পলাশ সুপ্রাচীনকালেও ছিল সমান আদরণীয়। মহাভারতের সভাপর্বে ইন্দ্রপ্রস্থ নগরের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে উদ্যান আর কৃত্রিম জলাধারের পাশেও ছিল পলাশ বৃক্ষের মাতামাতি। 

পলাশ ফুল বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত উপমহাদেশে, নেপাল, লাওস এবং মিয়ানমার ও ভিয়েতনামেও জন্মে থাকে। হিন্দুদের সরস্বতী পূজা এবং দোলযাত্রায় এই পলাশ ফুলের রঙ দিয়ে হলি খেলা হয়। পলাশ ফুলের সৌন্দর্য ছাড়াও এতে রয়েছে ভেষজগুণ, এটি ঔষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পলাশ কাঠের তৈরি করা চামচ হিন্দুদের পূজাতে বিভিন্ন ধরনের রীতিনীতিতে ব্যবহার করা হয়।

ফরিদপুর জেলের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতিতে ফুটেছে পলাশ ফুল। পলাশ ফুল মানেই বাঙালিদের মনে এক প্রশান্তির চেতনা। পলাশ ফুলের লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় বাঙালিদের জাতীয়তাবাদ, আর্তনাদ ও চেতনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঋতুরাজ বসন্তের রূপ বর্ণনা করে আবহমানকাল ধরে লেখা হচ্ছে অসংখ্য গান আর কবিতা। এসব লেখায় নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে পলাশ ফুলের রূপের কথা। এছাড়া হিন্দু ধর্মে পলাশ ফুলের ব্যাবহারের কথা উল্লেখ আছে।’

ফরিদপুর এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার সঞ্জিত দাস বলেন, ‘এই মৌসুমে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে প্রবেশ করলেই পলাশ ফুল চোখে পড়ে, এতে মন আনন্দে ভরে উঠে। এছাড়া শীতের জড়তাকে কাটিয়ে প্রকৃতিকে আবার রাঙিয়ে তুলতে আমরা পলাশ  ফুলকে দেখতে পাই। কিন্তু বর্তমানে পলাশ ফুল দেখাই যায় না। শুধু ক্লাবে টিকে আছে গাছটি। বিভিন্ন কারণে পলাশ ফুল গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।’ 

প্রকৃতির সৌন্দয্য ধরে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে পলাশ ফুল গাছ লাগানোর দাবি জানান।

কেকে/বি



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close