কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছোট্ট গ্রাম কিশোরনগর। মাত্র তিনটি বাড়ি নিয়ে গঠিত গ্রামটির জনসংখ্যা প্রায় এক হাজার। তবে বিপুলসংখ্যক পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এখন চারদিকে পরিচিতি পেয়েছে গ্রামটি।
গ্রামের সিরাজ মাস্টারের বাড়ির আশপাশের বাঁশঝাড়, তেঁতুল, আম ও নারিকেল গাছে বাসা বেঁধেছে সাদা বক, পানকৌড়িসহ নানা জাতের পাখি। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের গাছে দেখা মেলে অসংখ্য পাখির বাসা ও ছোট ছোট ছানার। মা পাখি খাবার নিয়ে ফিরলে ছানারা গলা উঁচিয়ে খাবার চায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত চার বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে পাখিগুলো এখানে আসে। প্রায় চার মাস অবস্থান করে ছানা ফুটিয়ে বড় করার পর শীতের আগেই অন্যত্র চলে যায়।
পাখির এই অভয়াশ্রম দেখতে ও ছবি তুলতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। গাছের মাথায় সাদা বক আর কালো পানকৌড়ির এমন দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক অনন্য রঙের উৎসব।
মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসান, জামাল উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দিকে এতো পাখি ছিলো না। এই বছর বেশি এসেছে। বাড়ির বাসিন্দারা তাদের কোন বিরক্ত করেন না। পাশের বিল ও পুকুর থেকে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় পায় বলে তারা এখানে আসে। এদিকে কিছু দুষ্ট লোক এখান থেকে পাখির ছানা নিতে চেষ্টা করে। আমরা তাদের এই কাজে বাধা প্রদান করি।’
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের মতো পাখিরও প্রয়োজন রয়েছে। বুড়িচং উপজেলার কিশোরনগর গ্রামে পাখির অভয়াশ্রমের বিষয়টি শুনেছি। এলাকাটি আমরা পরিদর্শনে যাবো। পরিদর্শনের পর পাখি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
কেকে/ এমএস