রাতের নীরবতায় মোবাইলের নীলাভ আলোয় কেটে যাচ্ছে সময়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখ আটকে গেল পুরোনো এক বন্ধুর মেসেজে। কৌতূহল থেকে পড়তে শুরু করলেন পুরোনো কথোপকথন। একটি মেসেজ থেকে আরেকটি—কখন যে সময় চলে গেল, টেরই পেলেন না। ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরোনো স্মৃতির ভেতর।
তখন হয়তো মনে হতে পারে, আপনি আবারও সেই মানুষটিকে নিয়ে ভাবছেন। মনে হতে পারে, কোথাও যেন একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে। এমনকি মনে হতে পারে, পুরোনো সেই আবেগও বুঝি আবার ফিরে আসছে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে। আপনি হয়তো সেই মানুষটিকে আর কাছে পেতে চান না, আগের মতো ভালোবাসেনও না। তবু পুরোনো স্মৃতিতে বারবার ফিরে যাচ্ছেন। এর পেছনে কাজ করতে পারে মানুষের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা—জেইগারনিক ইফেক্ট (Zeigarnik Effect)।
কেন এমন হয়?
জেইগারনিক ইফেক্টের ধারণা অনুযায়ী, মানুষ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া কাজের তুলনায় অসম্পূর্ণ বা অমীমাংসিত বিষয় বেশি মনে রাখতে পারে। কোনো কাজ শেষ না হওয়া, কোনো কথার উত্তর না পাওয়া কিংবা কোনো সম্পর্কের সমাপ্তি পরিষ্কারভাবে না হওয়া—এসব বিষয় মস্তিষ্কে এক ধরনের ‘অসম্পূর্ণতা’র অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
ফলে অনেক দিন পরও কোনো পুরোনো ছবি, মেসেজ, গান কিংবা পরিচিত কোনো জায়গা সেই স্মৃতিকে আবার সক্রিয় করে দিতে পারে। তখন মনে হতে পারে, আপনি বুঝি আবার সেই মানুষটির কথা ভাবছেন। আসলে অনেক ক্ষেত্রে আপনি মানুষটিকে নয়, বরং সেই অসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা, না-বলা কথা কিংবা অমীমাংসিত অনুভূতিটিকেই মনে করছেন।
ধরা যাক, একটি সম্পর্কের শেষটা আপনার কাছে পরিষ্কার ছিল না। হয়তো কিছু কথা বলা হয়নি, কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি কিংবা হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে গেলেও মস্তিষ্কের কাছে সেই অভিজ্ঞতাটি পুরোপুরি ‘শেষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নাও হতে পারে।
এ কারণেই বহুদিন পর পুরোনো কোনো মেসেজ চোখে পড়লে আপনি আবার সেই কথোপকথনের ভেতরে ঢুকে যেতে পারেন। মনে হতে পারে, ‘কী হতো যদি...?’ কিংবা ‘কেন এমন হয়েছিল?’
কেকে/সাশ