চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এবার প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে এক অপরূপ চন্দ্রপ্রভা (Tecoma) ফুল গাছ। চা-বাগানের সবুজ চাদর আর পাহাড়ি টিলার মায়াবী পরিমণ্ডলের মাঝে শহরের কলেজ রোডের একটি বাড়ির সামনে ফুটে থাকা এই চন্দ্রপ্রভা ফুলগুলো এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সোনালী হলুদ রঙের নজরকাড়া সমারোহ এবং এর মিষ্টি সুবাস পথচারী থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের দারুণভাবে বিমোহিত করছে।
শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোড নিবাসী ভুনবীর দশরথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের স্বনামধন্য শিক্ষক এবং একাধারে সৌখিন ফটোগ্রাফার তারিক হাসানের বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৩ বছর বয়সি এই চন্দ্রপ্রভা গাছটি। রাস্তার একদম পাশেই গাছটির অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াতের পথে সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর উপায় থাকে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শৌখিন ও নান্দনিক এই গাছটি শিক্ষক তারিক হাসানকে ভালোবেসে উপহার দিয়েছিলেন তার স্নেহের ‘চ্যালা’ রকি রায়। পরম যত্ন আর ভালোবাসায় বড় করা সেই উপহারের গাছটি আজ মাত্র তিন বছর বয়সেই ফুলে ফুলে সুশোভিত হয়ে পুরো এলাকার পরিবেশকে স্নিগ্ধ করে তুলেছে।
সম্প্রতি গাছটিতে যখন থোকা থোকা সোনালী হলুদ ফুল ফোটে, তখন শিক্ষক তারিক হাসান এর একটি মনমুগ্ধকর ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ার বইতে শুরু করে।
শিক্ষক তারিক হাসানের সেই ফেসবুক পোস্টটিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মন্তব্য করে নিজেদের ভালো লাগা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিদিনের পরিচিত রুট ধরে চলাচলকারী মানুষেরা তাদের অনুভূতির কথা জানাতে ভোলেননি।
অনিরুদ্দীন বাচ্চু নামে বার্ডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক অভিভাবক পোস্টের কমেন্টে লিখেছেন, আমি প্রত্যেকদিন বার্ডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে বাচ্চাদের আনা-নেওয়ার সময় এর নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হই।
গাছটির সুবাসের জাদুকরী প্রভাব সম্পর্কে তরুণ ফারহান হাসান মন্তব্য করেছেন, আহ! পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই কী দারুণ সুবাস! অনেক অনেক ধন্যবাদ স্যার, আপনার এই গাছের ফুলের গন্ধে অন্তরটা ঠান্ডা হয়ে যায়।
সাহিত্যমনস্ক মানুষেরাও পিছিয়ে ছিলেন না। শিক্ষক ও সাহিত্যিক জহিরুল ইসলাম লিখেছেন, মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আরেক প্রকৃতিপ্রেমী মলয় দত্ত লিখেছেন, আহ কী যে সুন্দর।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি চারপাশের সৌন্দর্য পিয়াসী কুঞ্জবন সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল কবীর লিখেছেন, মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ। এ ছাড়া খলিলুর রহমানসহ আরও অনেকে ছবিটিতে সুন্দর মন্তব্য হিসেবে ‘মাশাআল্লাহ দারুণ’ লিখে শিক্ষক তারিক হাসানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বর্তমান আধুনিক ও যান্ত্রিক যুগে নাগরিক ব্যস্ততা যখন মানুষের মনকে ক্লান্ত করে তোলে, তখন প্রকৃতির এমন সাধারণ অথচ দৃষ্টিনন্দন রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের আসল প্রশান্তি কোথায় নিহিত।
শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডের এই চন্দ্রপ্রভা গাছটি কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি যেন এলাকার প্রতিটি মানুষের যাতায়াতের ক্লান্তি মুছে দেওয়ার এক প্রাকৃতিক ওষুধ। শিক্ষক তারিক হাসানের সৌখিন মন এবং রকি রায়ের দেওয়া সেই ছোট্ট উপহারের গাছটি আজ তিন বছর পর সমগ্র শ্রীমঙ্গলবাসীর জন্য এক অনাবিল আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে।
কেকে/এআই