শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে নোটিশ, তবু অনুমোদন ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট      ● কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ১০ পর্যটকের মৃত্য      ● ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তার অধিকার সবার : প্রধানমন্ত্রী      ● দিল্লিতে মিছিলের পূর্বেই আটক অভিজিৎ, হেফাজতে নেহা বোরা      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১১৮১       ● হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু      ● আবারও গুলি-কুপিয়ে জখম, চাঁদাবাজি-দখলবাজিতে টালমাটাল মোহাম্মদপুর      
ফিচার
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

একসময় যে মানুষটি ছিলেন জীবনের সবচেয়ে কাছের, বিচ্ছেদের পর তার স্মৃতিই কখনও হয়ে উঠতে পারে কষ্টের কারণ। জমে থাকা অভিমান, ক্ষোভ কিংবা অপূর্ণতার ভার নিয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন কাটিয়ে দেন। সেই তিক্ততা পেছনে ফেলে মানসিক শান্তি খুঁজে নেওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা নেতিবাচক অনুভূতিগুলো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ পুরোনো সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়; বরং অতীতের অভিজ্ঞতাকে মেনে নিয়ে নিজের জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

বিভিন্ন অনলাইন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে দিবসটির প্রতিষ্ঠাতা কে, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা ১৭ অক্টোবর তারিখটি কেন নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।

এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবসও নয়। মূলত অনলাইন ক্যালেন্ডার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দিবসটি পরিচিতি পেয়েছে। ফলে এর সূচনা ও ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা কঠিন।

একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে বিশ্বাসের সংকট, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পার্থক্যসহ নানা কারণ থাকতে পারে। বিচ্ছেদের পর অনেকের মনে থেকে যায় না বলা কথা, অনুত্তরিত প্রশ্ন ও পুরোনো স্মৃতি। এসব নিয়ে বারবার ভাবতে গিয়ে কেউ কেউ নতুনভাবে জীবন শুরু করতেও হিমশিম খান।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে ভাবার এবং মানসিকভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি উপলক্ষ। অতীতের কষ্ট অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং সেই অভিজ্ঞতা যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে চেষ্টা করাই এর অন্যতম বার্তা।

ক্ষমা করার অর্থ কারও অন্যায়কে সমর্থন করা কিংবা তার আচরণকে বৈধতা দেওয়া নয়। বরং নিজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভের প্রভাব কমিয়ে ব্যক্তিগত শান্তি খুঁজে নেওয়ার একটি পথ হতে পারে এটি।

সব বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কেউ সহজেই অতীত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে কষ্ট কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। তাই কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকিছু ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করা বা সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। প্রয়োজনে দূরত্ব বজায় রেখেও কেউ নিজের মনে জমে থাকা ক্ষোভ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে কোনো সম্পর্কে নির্যাতন, প্রতারণা বা গুরুতর ক্ষতির অভিজ্ঞতা থাকলে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

দিবসটির তাৎপর্য তাই শুধু প্রাক্তনকে ক্ষমা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ দিক। সবার ক্ষেত্রে ক্ষমার প্রক্রিয়া এক নয়। তবে নিজের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া এবং ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই হতে পারে নতুন শুরুর প্রথম পদক্ষেপ।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রাক্তন   ক্ষমা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close