মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● এক দিন বেড়ে দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, প্রধানমন্ত্রী বাড়ালেন অনুদানও      ● দেশে হামে মৃত্যু ছাড়ালো ১১০০      ● ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে      ● হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু      ● একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত, মজুতদারির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      ● মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পেল বাংলাদেশ      
ফিচার
শরতের আগমনী বার্তা কাশফুলে প্রকৃতির শুভ্রতায় মা দুর্গার আগমন
সনৎ চক্রবর্তী, ফরিদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ভোরের শিশিরভেজা বাতাস আর মাঠজুড়ে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুল—প্রকৃতিই যেন জানান দিচ্ছে, বিদায় নিয়েছে বর্ষা, এসেছে শরৎ। আর বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে শরৎ মানেই যেন আরেকটি প্রতীক্ষা—মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা।

ফরিদপুরের নদীর তীর, চরাঞ্চল ও খোলা প্রান্তরে ফুটতে শুরু করেছে সাদা কাশফুল। বাতাসে দুলে দুলে কাশের শুভ্র শীষ যেন অদৃশ্য কোনো আগমনী সুর বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই শুভ্র সাজে অনেকের মনেই বেজে উঠছে ঢাকের শব্দ—‘মা আসছেন’।

শরৎ আর কাশফুলের এই সম্পর্ক শুধু প্রকৃতির ঋতুবদলের দৃশ্য নয়; বাংলার লোকসংস্কৃতি, সাহিত্য ও দুর্গাপূজার আবহের সঙ্গেও তা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন বাংলা লেখায় শরৎ, কাশফুল, শিউলি ও দুর্গাপূজার আবহ একসঙ্গে ফিরে এসেছে।

 হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও  কাশফুল ও শিউলিকে দুর্গাপূজার আগমনী আবহের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে থাকে  ।

কাশফুল যেন প্রকৃতির আগমনী দূতউদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম স্যাকেরাম স্পন্টেনিয়াম। এটি ঘাসজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। নদীর পাড়, চরাঞ্চল, জলাভূমির আশপাশ ও পলিমাটিযুক্ত খোলা জায়গায় এর বিস্তার বেশি দেখা যায়। বর্ষার পানি সরে যাওয়ার পর নতুন পলি ও খোলা মাটিতে কাশ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং শরৎকালে তার সাদা পালকের মতো ফুল ফুটে ওঠে।তাই প্রকৃতির নিয়মেই কাশফুল শরতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনায় এই প্রাকৃতিক দৃশ্য পেয়েছে আরও গভীর অর্থ। 

শরতের কাশের শুভ্রতা অনেকের কাছে পবিত্রতা, শান্তি ও শুভাগমনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।কাশফুল আর দুর্গাপূজা—এক সাংস্কৃতিক বন্ধনহিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রে কাশফুলকে দুর্গাপূজার অপরিহার্য উপাচার হিসেবে সর্বজনীনভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে—এমন দাবি করার চেয়ে বলা যায়, বাংলার লোকাচার ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে কাশফুল দুর্গাপূজার আগমনী আবহের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শরৎ এলেই কাশফুল ফোটে, আর সেই একই সময়ে আসে দেবীপক্ষ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাশফুল হয়ে উঠেছে ‘মা আসছেন’—এই অনুভূতির একটি দৃশ্যমান প্রতীক।শুভ্র কাশ যেন মায়ের আগমনের পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রকৃতির সাদা প্রদীপ। কোথাও কোনো শব্দ নেই, তবু বাতাসে দুলতে থাকা প্রতিটি কাশফুল যেন বলে—“এসেছে শরৎ, এবার মা আসবেন।”

ফরিদপুরের জগৎপ্রভুর আমিনা থেকে কথা হয় সরলা নামে ভক্তের সাথে। তিনি বলেন,  “আমাদের কাছে কাশফুল দেখলেই ছোটবেলার দুর্গাপূজার কথা মনে পড়ে। শরতের নীল আকাশ, শিউলির গন্ধ আর কাশফুল—সবকিছু মিলেই মনে হয় মা দুর্গা আসছেন। কাশফুল হয়তো পূজার মূল উপাচার নয়, কিন্তু আমাদের অনুভূতি ও সংস্কৃতিতে এটি দুর্গাপূজার আগমনী বার্তার সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।’’

ফরিদপুরের মদন গোপাল আঙিনার সামনে থেকে কথা হয় আর এক ভক্ত রমা চক্রবর্তী সাথে। তিনি বলেন, “কাশফুলের শুভ্রতার মধ্যে আমরা এক ধরনের পবিত্রতার অনুভূতি পাই। মহালয়ার সময় যখন চারদিকে কাশফুল দুলতে দেখি, তখন মনে হয় প্রকৃতিও যেন দেবীকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আমাদের শৈশব, পূজার আনন্দ আর শরতের স্মৃতির সঙ্গে কাশফুল ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘সাহিত্যে শরৎ, কাশফুল ও দেবীর আবাহনবাংলা সাহিত্যে শরৎ শুধু একটি ঋতুর নাম নয়—এ যেন নির্মলতা, সৌন্দর্য ও অপেক্ষার ঋতু। নীল আকাশের নিচে সাদা কাশের ঢেউ বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের কল্পনাকে বারবার আলোড়িত করেছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোচনাতেও কাশফুলকে শরৎ ও দুর্গাপূজার আবহের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে।’’

ফরিদপুরের প্রকৃতিতেও সেই চিরচেনা বাংলার ছবি ফিরে এসেছে। নদীর পাড়ে কিংবা খোলা মাঠে বাতাসে দুলছে কাশের শুভ্র শীষ। দূরে নীল আকাশ, তার ভেলায় সাদা মেঘ। মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই সাজিয়েছে দেবীর আগমনের মঞ্চ।

কাশফুল তাই শুধু একটি ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুল নয়—বাংলার মানুষের ঋতুচেতনা, শৈশবের স্মৃতি, সাহিত্যিক কল্পনা এবং শারদীয় উৎসবের আবহে এটি এক বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতীক।শরৎ আসে প্রকৃতির হাত ধরে। কাশফুল তার শুভ্র পতাকা উড়িয়ে সেই আগমনের খবর দেয়। আর বাঙালি হিন্দুর হৃদয়ে সেই খবর ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক চিরন্তন প্রত্যাশায়—“এসেছে শরৎ, বাজবে ঢাক, জাগবে উৎসবের আলো—মা দুর্গা আসছেন মর্ত্যলোকে।”

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শরতের আগমনী বার্তা   কাশফুলে প্রকৃতির শুভ্রতা   মা দুর্গার আগমন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close