শরতের স্নিগ্ধ সকালে সাদা-কমলা শিউলি ফুলের সুবাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের গ্রামবাংলা। ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন হিন্দু পরিবারের বাড়ির আঙিনা ও গাছতলায় ঝরে পড়া শিউলি কুড়াতে দেখা যাচ্ছে শিশু ও পূজারীদের। মিষ্টি সুবাসে প্রকৃতিজুড়ে যেন জানান দিচ্ছে—ঘনিয়ে এসেছে দুর্গাপূজা।
শিউলি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম *Nyctanthes arbor-tristis*। গাছটি সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। রাতে ফুল ফোটে এবং ভোরে ঝরে পড়ে বলে শরৎ ও ভোরের সঙ্গে শিউলি ফুলের এক বিশেষ আবেগ জড়িয়ে আছে। সাদা পাপড়ির মাঝে কমলা রঙের বৃন্ত ফুলটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।
ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে এখন চোখে পড়ছে শিউলি গাছ। ভোরে হাতে ছোট ঝুড়ি, কাপড়ের আঁচল কিংবা পূজার ফুল রাখার পাত্র নিয়ে শিশুদের ফুল কুড়ানোর দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে যোগ করেছে উৎসবের আমেজ।
ফরিদপুরের স্বর্ণকারপট্টির সামনে কথা হয় নববধূ শংকরী মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, “বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে ভোরবেলা শিউলি ফুল কুড়ানোর আনন্দটা নতুন করে অনুভব করছি। শিউলির গন্ধ পেলেই মনে হয় দুর্গাপূজা চলে এসেছে। পূজার ফুল নিজ হাতে কুড়িয়ে মায়ের চরণে দেওয়ার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে।”
আরেক নববধূ বৃষ্টি সাহা বলেন, “ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে শিউলি কুড়াতাম। এখন সংসারে নতুন মানুষ হয়ে সেই স্মৃতিগুলো আরও বেশি মনে পড়ছে। শিউলি ফুল আমাদের কাছে শুধু ফুল নয়, এটি পূজার আনন্দ ও শরতের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি অনুভূতি।”
বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, “শিউলি ফুলের সঙ্গে বাঙালি হিন্দু সমাজের শরৎকালীন উৎসবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভোরের শিশিরভেজা শিউলি আর দুর্গাপূজার আবহ যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুরা ভোরে শিউলি কুড়িয়ে পূজার আনন্দে অংশ নিয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের একটি সুন্দর অংশ। শিউলির সুবাসে শরতের আগমন যেমন অনুভূত হয়, তেমনি দুর্গাপূজার আনন্দও মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে নতুন প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “শিউলির সুবাস, কাশফুলের দোলা আর ভোরের শিশির—সব মিলিয়ে ফরিদপুরে এখন প্রকৃতিই যেন দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা বহন করছে।”
কেকে/সাশ