মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
ফিচার
মৌলভীবাজারে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল, সুভাস ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বসন্তের আগমনী বার্তায় গাছে গাছে আমের মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। ছোট-বড় আম গাছে ফুটেছে নতুন মুকুল, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পাগল করা ঘ্রাণ। 

মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর কোকিলের কুহুতানে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই দেখা যাচ্ছে আমের মুকুলে ভরা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা সড়ক, কোর্ট রোড, চাঁদনীঘাট ও কুসুমবাগ এলাকার প্রায় প্রতিটি আম গাছে মুকুল এসেছে। শ্রীমঙ্গল শহরের গুহ রোড, কলেজ রোড, মুসলিমবাগ এলাকাসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলেও। রাধানগর, মোহাজিরাবাদ, কালীঘাট, রাজঘাট, বিদ্যাবিল ও হরিণছড়া চা বাগান এলাকায় তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা গেছে। অনেক গাছে মুকুলের সঙ্গে গুটি আমও দেখা যাচ্ছে, যা মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। একই চিত্র জেলার সাত উপজেলার গ্রামে গ্রামে।

এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষণীয়। আম গাছগুলো যেন মুকুল নিয়ে হলদে রং ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই আম গাছের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। গেলো দুই সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে বলে জানান বাগান সংশ্লিষ্টরা। চলতি মৌসুমে এ জেলায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 
বাগান মালিক আব্দুল জলিল জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। কিছু গাছ মুকুলে ছেয়ে  গেছে। বেশিরভাগ গাছে মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের পরিচর্যা করেছেন। মুকুলের বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করছেন। 

আমচাষী শিপন মিয়া জানান, বছরজুড়ে গাছের পরিচর্যা করার কারণে এখন প্রতি বছরই বাগানে আমের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার আমের ভালো ফল হবে।
  
আম বাগানের মালিক কবির মিয়া বলেন, এবার আগাম প্রতিটি গাছেই আমের মুকুল আসছে। যদি আবহাওয়া প্রতিকূল না হয় তাহলে ভালো ফলন হবে। 
 
উজ্জ্বল কুর্মী বলেন, আমাদের সাইটুলা গ্রামে কম-বেশি প্রতিটি বাড়িতেই আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে এবার প্রচুর এসেছে মুকুল। তবে ফলন নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া ভাল থাকলে বাম্পার ফলন হবে। 

মহসিন আহমদ বলেন, মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা রোড এলাকার আশপাশে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে এলাকার আম গাছগুলোতে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছে মুকুল বের হচ্ছে। কিছু গাছে মুকুলের সঙ্গে গুটি আমের দেখাও মিলছে। 
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর আমের আগাম মুকুল ফুটেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমের মুকুলের পরিচর্যায় এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

আমচাষী এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে বলে ধারণ করা হচ্ছে। আর এ কারণেই আশায় বুক বেঁধে বাগান মালিকরা শুরু করেছেন পরিচর্যা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে তারা আম থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।  
 
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানান, আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, খনিজ পদার্থ ও ক্যালরী রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো ও ত্বক মসৃণ রাখতে ভিটামিন এ অধিক প্রয়োজনীয়। আমের অতুলনীয় স্বাদ, প্রাচুর্যতা, পুষ্টিমান, বৈচিত্র্যতা ইত্যাদি কারণে আমকে ফলের রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিতে আম অতুলনীয়। আমের ইংরেজি নাম ম্যাংগো আর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাংগিফেরা ইন্ডিকা।
  
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে আগে মুকুল এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।
 
কেকে/এসএএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  আমের মুকুল   মৌলভীবাজার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close