ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে সম্প্রতি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব লেনদেনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য শেয়ার করেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, অর্থের বেশির ভাগই অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে। লেনদেনগুলো সাতটি বিকাশ ও নগদ একাউন্ট থেকে ওসির কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনের একটি বিকাশ/নগদের দোকান (রহিমের দোকান) থেকে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
এছাড়া কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা এসেছে।
অন্যান্য ব্যক্তির মাধ্যমে আসা অর্থের মধ্যে রয়েছে: নাসিম (বাড়িওয়ালা) – ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ – ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা, খালেক – ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা, লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে, রেজিস্ট্রেশনকৃত নম্বর – ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা, মিজানুর – ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা
সর্বশেষ, ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আসা অর্থ এপিআই সিস্টেম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়াতে খরচ করেছেন।
এ বিষয়ে ওসি ইমাউল হক বলেন, “তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেন না এবং তার মোবাইলটি হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ধরনের অবৈধ অনলাইন জুয়া সরকারী ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ অর্থ লেনদেনের একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।
কেকে/এলএ