যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ সংবিধানবিরোধী, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এমন ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরও। কারণ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিতে সই করেছিল সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার।
ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমে ১৯ শতাংশে নেমেছিল। বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন ও বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে অর্থনীতিবিদরা চুক্তিটিকে ‘অসম’ ও ‘চাপিয়ে দেয়া’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প নতুন করে ‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে আপাতভাবে বাংলাদেশের শুল্কহার কমেছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রমপরিবেশ, পরিবেশগত মান ও বাণিজ্য নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করবে। অনিয়ম পেলে শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাত স্বস্তি থাকলেও ঝুঁকি কাটেনি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে,
‘এখনই পুরোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনায় না গিয়ে সময় নেয়াই ভালো।’
তার পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের আগে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি ঠিক করে প্রস্তুত থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। ফলে, ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলার
কেকে/