সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      
ফিচার
মৌলভীবাজারে দুই বোন বাঁচিয়ে রেখেছেন খাড়িয়া ভাষা
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
ছবি: ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা

ছবি: ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা

মৌলভীবাজারের চা শিল্পাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে খাড়িয়া ভাষা এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। ভাষাটি বর্তমানে টিকে আছে মাত্র দুইজন মানুষের মুখে। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া চা বাগানের শ্রমিক ভেরোনিকা কেরকেটা (৮১) ও তার বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা (৭৬)। ভাষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের মৃত্যু হলে চিরতরে হারিয়ে যাবে বাংলাদেশের এই অতি বিপন্ন ভাষাগুলোর একটি।

মৌলভীবাজারের চা বাগানাঞ্চলে খাসিয়া, গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, খাড়িয়া, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওঁ, কুর্মী, বুনারাজি, গঞ্জু, পাঙালসহ অন্তত ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলে, লেখে এবং পড়ে। বৈজ্ঞানিক ভাষা সমীক্ষায় খাড়িয়া ভাষাসহ বম, কোল, চাক, শো, খাসি, কোড়া, পাংখুয়া, সৌরা, কোডা, মুন্ডারি, মালতো, কন্দ, খুমি, রেংমিতচা, খিয়াং, লালেং বা পাত্র ও লুসাই ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক সময় চা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অসংখ্য খাড়িয়া শ্রমিকের মাতৃভাষা ছিল খাড়িয়া। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ভাষাটির ব্যবহার কমতে কমতে এখন প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমানে সাদ্রি-বাংলা, দেশোয়ালি ও খাড়িয়ার মিশ্রণে এক ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন অনেকেই, তবে প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা জানেন কেবল দুই বোন।

বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের উদ্যোক্তা পিওস নানোয়া জানান, ২০১৭ সালে বর্মাছড়া বাগানের উত্তরণ যুব সংঘের মাধ্যমে ভাষাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মাধ্যমে শিশুদের কিছু শিক্ষা দেওয়া হলেও উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৯৮.২৭ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তবে চাকমা, মারমা, তংচঙ্গ্যা, হাজং, মুরংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৪১টি শ্রমিক কলোনিতে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। ২০২০ সালের অনুসন্ধানে প্রায় হাজারখানেক খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ শনাক্ত হলেও ভাষাটি জানা কাউকে পাওয়া যায়নি, দুই বোন ছাড়া।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দেশের চা বাগানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসী গোষ্ঠীর বিচিত্র ভাষাভাষী মানুষের বাস। তাদের অনেক ভাষা সংরক্ষণ ও চর্চার অভাবে বিপন্ন। খাড়িয়া তার মধ্যে একটি। এটি সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ আবশ্যক। এ জনগোষ্ঠী সাদ্রিবাংলা, দেশোয়ালি ও মূল খাড়িয়ার সংমিশ্রণে এক ধরনের ভাষায় কথা বলেন। প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা দুই বোনের মৃত্যুর পর হারিয়ে যাবে। ভাষাটি রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
   
ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগেও এ দেশে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা খাড়িয়া ভাষায় কথা বলতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিপূর্ণভাবে খাড়িয়া ভাষা জানেন এমন দুইজন সদস্য হিসেবে শুধু মাত্র  আমি ও আমার বোনই জীবিত আছি।’ 

তাদের মৃত্যুর পর মূল খাড়িয়া ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর আর কোনো সদস্য থাকবেন বলে তার জানা নেই। কারণ আর কেউ খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর এই ভাষাটি জানে না বলে জানান তিনি।
 
ক্রিস্টিনা কেরকেটা হতাশা নিয়ে জানান, তাদের দুই বোনের মৃত্যুর পর আর খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার কেউ থাকবে না। তার দাবি সরকার এ বিষয়ে যেন উদ্যোগ নেয়। 
 
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
 
কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার    খাড়িয়া ভাষা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close