প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের যে অঞ্চলে প্রবাসীরা রয়েছেন সেখানেই তাদের বিদেশ থেকে আসা লাশ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে বিনামূল্যে প্রেরণ করা হবে—তাদের নিজ নিজ বাড়িতে। শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট নয়—পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিমানবন্দর থেকে এটি করা হবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসীকল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে প্রবাসী কর্মীর মৃতদেহ পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রবাসীদের লাশ আসবে—তাদের লাশ ফ্রিজিংয়ের ব্যবস্থা করে বিমানবন্দর থেকে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে প্রেরণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্বে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে এই কাজটি করা হতো—এখন এর সঙ্গে আরো দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হয়েছে।”
মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, “বিনামূল্যে প্রবাসীদের লাশ প্রেরণের বিষয়টি এখন শুধু ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও এই কাজটি করা হবে। আগামী ছয় মাসের আমরা আমাদের যে নির্বাচনি ইশতেহার দেয়া আছে—তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আমরা এই মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসীদের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে আলাপ-আলোচনা, পরামর্শ করার মধ্য দিয়ে আমাদের কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রবাসী পরিবারের যারা বিদেশে মারা যান—তাদের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল যে, এই লাশগুলো যেন সরকারিভাবে পরিবহনের একটা ব্যবস্থা করা হয়। আগের তিনটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ছিল, এর সঙ্গে এখন আরও দুটি যুক্ত হয়েছে। এই ৫টি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে প্রবাসীদের লাশ বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হবে।”
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক আরও বলেন, “প্রবাসী যাদের মৃত লাশ আসে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরেই লাশের পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয় এবং প্রবাসী যারা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে প্রবাসে যায় তাদের লাশের জন্য একটা ফান্ড আসে ১৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু এটা পেতে হলে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে বিএমইটিতে রেজিস্ট্রেশন করে যেতে হবে। অনেকে ভুল করে রেজিস্ট্রেশনটা করে যায় না—রেজিস্ট্রেশন করে না গেলে বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
বর্তমানে তিনটি এসি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। দূরদূরান্তে এগুলো দিয়ে লাশ প্রেরণ সম্ভব হয় না। এই জন্য সরকার ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করেছে। আজ দুটি সংযুক্তির ফলে প্রত্যেক বিমানবন্দর থেকে সরকারিভাবে লাশ প্রবাসীদের নিজ নিজ বাড়িতে প্রেরণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানের আয়োজক ওয়েজ আর্নাস বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া উল্লেখ করেন ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এজে