চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘‘মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে অহরহ। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। সুতরাং তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই, ওই মানুষ এমনকি আলেম, মুফতি ও পীরের কোনো মূল্য নেই।’’
শনিবার (৪ এপ্রিল) বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত মাহফিলের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব বলেন।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের এই মাহফিল শুরু হয়।
মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘‘নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরি পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। ঘোড়ার মুখে যেভাবে লাগাম থাকে, সেভাবে রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হবে। গিবতের মতো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। পরিবারের সবাইকে দীন শিক্ষা দিয়ে দীনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাস পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্য হতে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়তে হবে। সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে।’’
আখেরি বয়ানের পর পীর সাহেব চরমোনাই বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি মুরিদানদের সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তওবা করিয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার শপথ করান। আখেরি মোনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের অবসান ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত চরমোনাই মুরিদানদের মধ্য হতে মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
চরমোনাই অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতালে এ বছর প্রায় দুই সহস্রাধিক মুসল্লিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এবারের মাহফিলে দুইজন অমুসলিম পীর সাহেব চরমোনাই ও শায়খে চরমোনাইয়ের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
কেকে/এসএ