বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চো অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এর মাধ্যমেই দেশের উন্নয়নের নতুন বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।’
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহিদ ওসমান বিন হাদী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষ্যে সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেমিনারে এহছানুল হক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এ খাতকে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই দেশকে স্বাবলম্বী করা, পরিবারকে স্বচ্ছল করা এবং সমাজকে সেবা করা সম্ভব।’
‘জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষার প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই, বরং এটি স্বল্প সময়ে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করে।’
তিনি বাজেট ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়লেও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করা জরুরি।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষায় বিলম্ব এবং কারিকুলাম ও সিলেবাসের অসামঞ্জস্যসহ নানা বিষয়ে জানতে চান। শিক্ষার্থীরাও তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
এহছানুল হক বলেন, ‘মন্ত্রী আসেন ও যান, কিন্তু আমাদের সবারই প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রমুখ।
কেকে/এমএ