শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।’
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় বলেছিলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে।’
তবে সৈয়দ আরাগচি এ বক্তব্য দেওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো না পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন ব্যবসায় ও জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরানের সাথে আমাদের যাবতীয় লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পোস্ট দেওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা এক পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে—তাহলে হরমুজ বেশি দিন উন্মুক্ত থাকবে না। এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নির্ধারিত পথ অনুযায়ী ও ইরানের অনুমোদনক্রমে পরিচালিত হবে।”
ঘালিবাফ এই বক্তব্য পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজে ফের অবরোধ জারি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
সূত্র : এপি
কেকে/এলএ