ডিপো থেকে আনা জ্বালানি ঠিকভাবে ফিলিং স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে কি না, নাকি পথে কোথাও চুরি বা অবৈধ মজুত হচ্ছে এ বিষয়ে মনিটরিং কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে মজুত ঠেকাতে সরকার ফুয়েল পাস চালুর মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোকেও কঠোর ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। সরকার জানিয়েছে, পুরো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর প্রভাব দেশে পড়ায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক তৈরি হয়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি।
একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ, অন্যদিকে অবৈধ মজুত ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এসব অভিযানে প্রতিদিনই কয়েক হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি উদ্ধার হচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মজুত রোধে চালু করা হয়েছে ফুয়েল পাস।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অপারেশন অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বিভিন্ন সমস্যাকে নতুন করে উপলব্ধি করছে। যেহেতু সরকার নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে, তাই পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ট্যাংক লরিতে বিশেষ ডিভাইস স্থাপন করা হবে, যা থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে।”
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এক গবেষক জানান, শ্রীলঙ্কা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় এনে ইতিবাচক ফল পেয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা জরুরি। শ্রীলঙ্কায় কোডভিত্তিক সিস্টেম চালু করে ডিপো থেকে ট্রাকলরিতে কত জ্বালানি নেয়া হলো, সেখান থেকে কতটা ফিলিং স্টেশনে পৌঁছালো এবং কতটা লোড-আনলোড হলো এসব তথ্য নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অপচয় ও চুরি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও এমন ব্যবস্থা চালু করা হলে একই সুফল পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যথাযথ নজরদারি না থাকলে জ্বালানি সাশ্রয়ের সব উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে।”
কেকে/এলএ